ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় গত আগস্টের শুরু থেকে ২ লাখ ৯০ হাজারেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত এসব মানুষের মধ্যে প্রায় ৬ হাজার ১০০ জন গর্ভবতী নারী রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬০০ জন আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সন্তান প্রসব করতে পারেন বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।
সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানায়, শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফান ডুজারিক এ তথ্য জানান। জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) হিসাব তুলে ধরে তিনি বলেন, সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত নারীদের মাতৃস্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা দল ও ধাত্রী পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে।
এদিকে, ইয়েমেনে আগে থেকেই আশ্রয় নেওয়া শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীরাও নতুন করে সংকটের মুখে পড়েছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, ৬৫ হাজারের বেশি শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী দ্রুত অবনতিশীল মানবিক পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন। বিভিন্ন সেবা ব্যাহত হওয়া এবং খাদ্য ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় মৌলিক চাহিদা পূরণে হিমশিম খাচ্ছে পরিবারগুলো।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, গত আগস্ট থেকে ৬০০ জনের বেশি সোমালি শরণার্থীকে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যেতে সহায়তা করা হয়েছে।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফান ডুজারিক বলেন, মানবিক সহায়তাকারী সংস্থাগুলো এখন পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ৪৯ হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষের কাছে খাদ্য, স্বাস্থ্যবিধি সামগ্রী ও জরুরি নগদ অর্থ পৌঁছে দিয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সহায়তা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে।
সংঘাতে জড়িত সব পক্ষের প্রতি বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোর সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলা এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর জন্য নিরাপদ ও বাধাহীন পথ নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি।
উল্লেখ্য, নতুন করে সংঘাত শুরুর আগেই ইয়েমেনে ৫২ লাখের বেশি মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ছিলেন। এ ছাড়া হাজার হাজার মানুষ লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছেন।


