...|...|...

বিশ্ব

ইরানে সপ্তাহব্যাপী হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪:৫০
Shares
ইরানে সপ্তাহব্যাপী হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে টানা এক সপ্তাহব্যাপী বিমান হামলার জোরালো প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্ব, পারমাণবিক স্থাপনা, জ্বালানি খাত ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এই সম্ভাব্য হামলার মূল লক্ষ্য হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক সংঘাত এড়াতে উপসাগরীয় দেশগুলো কূটনৈতিক তৎপরতা ও সংযমের আহ্বান জানালেও এই যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। 

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘আরব নিউজ’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাত সর্বাত্মক সংযম ও রাজনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে কূটনৈতিক আলোচনায় আরও কিছু সময় দেওয়ার অনুরোধ করেছে। পাশাপাশি তেহরান ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে কাতার শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা সম্ভাব্য সাত দিনের একটি সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।

এদিকে ‘অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস’ পৃথক এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি মিত্র দেশকে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ এবং জ্বালানি অবকাঠামোসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সম্ভাব্য ইরানি প্রতিশোধমূলক হামলার জন্য প্রস্তুত থাকতে সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ সামরিক পরিকল্পনা

অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি সমন্বয় করতে গত সোমবার ইসরায়েলের সামরিক প্রধান জেনারেল ইয়ায়াল জামির মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সাথে ফোনালাপে কথা বলেছেন।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন যে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে ‘কাজ শেষ করে ছাড়বেন’। তিনি পরিষ্কার করেছেন যে তার লক্ষ্য কেবল তেহরানের পারমাণবিক ও সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করাই নয়; বরং ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানোই ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য। গত ২০ অক্টোবর দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু জানান যে তিনি বিষয়টি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছেন, যদিও ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে কি না, তার কোনো নিশ্চিত বার্তা পাওয়া যায়নি।

‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ জানিয়েছে, নির্বাচনের পর একটি সংক্ষিপ্ত ও তীব্র সামরিক অভিযানের জন্য প্রস্তুত থাকতে যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় দেশগুলোকে আগেই সতর্ক করেছে।

এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। এর অংশ হিসেবে ‘ইউএসএস থিওডর রুজভেলত’ বিমানবাহী রণতরী এবং মেরিন সেনা বহনকারী উভচর ল্যান্ডিং জাহাজ পারস্য উপসাগরের দিকে মোতায়েন করা হয়েছে। এপির তথ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপে প্রায় ৯,০০০ অতিরিক্ত সেনা যুক্ত হয়েছে, যার ফলে রণতরী ও মেরিন সেনাসহ আরব উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর মোট সদস্যসংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং এর সঙ্গে থাকবে শত শত যুদ্ধবিমান।

এদিকে, চলমান সামরিক প্রস্তুতির মধ্যেই পেন্টাগনের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের কৌশল, পরিকল্পনা ও নীতিবিষয়ক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল ব্রেট সিলভিয়াকে তার পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সিএনএন জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির এই সময়ে হঠাৎ এই বরখাস্তের পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ প্রকাশ করা হয়নি।