ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় নেগেভ মরুভূমির বিমানঘাঁটিতে ১০টি সামরিক কার্গো বিমান পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমানগুলো ইসরায়েলের ওভদা ও নেভাতিম বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে। এ ছাড়া জর্ডান, সৌদি আরব ও কাতারের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতেও যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত বিমান পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
কানের তথ্য অনুযায়ী, বিমানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট ব্লিস ঘাঁটি থেকে যাত্রা করেছে। সেখানে দেশটির অন্যতম বৃহৎ আকাশ প্রতিরক্ষাকেন্দ্র রয়েছে। তবে বিমানগুলোতে কী ধরনের সরঞ্জাম ছিল, তা জানা যায়নি। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েলের এক কর্মকর্তা কানকে জানিয়েছেন, সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে সিদ্ধান্তই নিন না কেন, তা মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে দুই দেশ। তবে ইরানে হামলার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে কান জানিয়েছিল, ইরানের বিরুদ্ধে স্বল্পমেয়াদি ও সীমিত সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন। এ ছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলে আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার করতে টেক্সাস থেকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সম্ভাব্য উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে অবস্থানরত সেনাদের সেখান থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানায় কান। পাশাপাশি ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত বাড়ানো হচ্ছে। নভেম্বর মাসে আরও একটি বিমানবাহী রণতরি ও মেরিন কোরের একটি ইউনিট সেখানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এগুলো মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা প্রায় ২০টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে যুক্ত হবে।
এদিকে, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান জেনারেল ব্র্যাড কুপার ইরানে সম্ভাব্য হামলার বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অবহিত করেছেন। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি।
মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফি সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনাকে ‘উন্মাদনা’ আখ্যা দিয়ে সতর্ক করেছেন, এ ধরনের অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
নতুন সামরিক মোতায়েনের খবর এমন সময়ে এল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


