প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি পুনরায় সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দেন, তবে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর বিশ্বের সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা ‘মাদার অব অল বম্বস’ বা জিবিইউ-৪৩/বি ব্যবহারের পরিকল্পনা তৈরি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সামরিক পরিকল্পনার সাথে যুক্ত একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারের সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমাটি মোতায়েন করার এই বিকল্পগুলোর মধ্যে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বা পরে সম্ভাব্য বিমান হামলার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে সিএনএন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে নির্বাচনের আগে তিনি নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেবেন না, যদিও তার কিছু উপদেষ্টা এই অবস্থান নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সাথে চলমান সংঘাতে এই বোমা ব্যবহার করা হলে তা এক বিশাল সংঘাতের জন্ম দেবে। যদিও এই পরিকল্পনার সাথে পরিচিত কর্মকর্তারা ওয়াশিংটনের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন বা যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তনে এই অস্ত্রের কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, সামরিক বাহিনীর এই বিকল্পগুলোর মধ্যে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো এবং পারমাণবিক সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে হামলার বিষয়টি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভূগর্ভস্থ গোপন স্থাপনা ‘পিক্যাক্স মাউন্টেন’, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিশ্বাস করে যে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ মজুত করে রেখেছে।
তবে ভারী গ্রানাইট পাথরের আস্তরণে সুরক্ষিত সুদৃঢ় ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলো ধ্বংস করার মতো যথেষ্ট গভীরে এমওএবি প্রবেশ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে খোদ কর্মকর্তারাও প্রশ্ন তুলেছেন। জিপিএস-নির্দেশিত এই অস্ত্রটি প্রায় নয়টি সিভিক ব্লক বা শহরের বড় একটি এলাকার সমান ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম, তবে এটি গভীরভাবে পুঁতে ফেলা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার চেয়ে মূলত বিশাল বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
এছাড়া বোমাটির ব্যাপক বিস্ফোরণ ব্যাসার্ধের কারণে—বিশেষ করে জনবহুল এলাকার কাছাকাছি অবকাঠামোতে ব্যবহার করা হলে—ব্যাপক বেসামরিক হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে বলেও সিএনএনের প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
পরিকল্পনার সাথে পরিচিত কিছু কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই অস্ত্রের ব্যবহারের ফলে ইরানের ওপর একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব পড়তে পারে। তবে কেবল এর ব্যবহারের মাধ্যমেই তেহরানকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করা যাবে কিংবা ওয়াশিংটনের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সামরিক বিজয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে—এমনটা তারা মনে করছেন না।
হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, সংবেদনশীল কোনো সামরিক পরিকল্পনা থাকতেও পারে বা নাও থাকতে পারে, সে বিষয়ে বর্তমান প্রশাসন কোনো মন্তব্য করে না। তবে ওই কর্মকর্তা যোগ করেছেন যে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করা থেকে বিরত রাখতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব বিকল্পই খোলা রাখছেন।
প্রতিবেদনে এমন কোনো ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি যে ট্রাম্প ইতিমধ্যে এই বোমা ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছেন। এর সম্ভাব্য মোতায়েন কেবলই একটি সামরিক বিকল্প হিসেবে বিবেচনাধীন রয়েছে। প্রায় ২১ হাজার ৬০০ পাউন্ড ওজনের জিবিইউ-৪৩/বি এমওএবি মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারের সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা।


