ইরানে গত জানুয়ারি মাসের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া অন্তত ৩৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস ইন ইরান।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে যে, আরও প্রায় ১০০ জন বিক্ষোভকারী বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি রয়েছেন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মানবাধিকার সংস্থাটি এই তথ্য জানিয়েছে।
শাফাক নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৮ সালে ইরানি মানবাধিকার কর্মীদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সিএইচআরআই উল্লেখ করেছে যে, গত ২০ মার্চ থেকে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা শুরু হয়। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পরই কেবল অনেক বন্দির নাম ও তাদের মামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
সংস্থাটি আরও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, যাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে তাদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজন এবং তাদের মামলা পরিচালনাকারী স্বাধীন মানবাধিকার আইনজীবীদের ওপর তীব্র চাপ ও হুমকি সৃষ্টি করা হচ্ছে।
এদিকে, এই গণফাঁসির ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের অধিবেশন উপলক্ষে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বিশ্বের ৪৬টি দেশ ইরানের পক্ষ থেকে মৃত্যুদণ্ডের লাগাতার ব্যবহারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বিশেষ করে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে এই সর্বোচ্চ সাজা দেওয়ার ঘটনায় তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে।
উল্লেখ্য, ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সংকটের জেরে গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর ইরানে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। পরবর্তীতে তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং ইরানের তৎকালীন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র গণআন্দোলনে রূপ নেয়।
অন্যদিকে ইরানি কর্তৃপক্ষ বরাবরই অভিযোগ করে আসছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেশের ভেতরে অস্থিতিশীলতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। তাদের দাবি, বিক্ষোভগুলো প্রথমে শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক সীমার মধ্যেই শুরু হয়েছিল, কিন্তু পরে সেখানে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অনুপ্রবেশের কারণে তা সহিংস রূপ নেয়।


