ইরানের সীমান্ত থেকে মার্কিন বাহিনী এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে সরে গেছে বলে দাবি করেছেন দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলি ফাদাভি। তাঁর দাবি, এই পিছু হটা ওয়াশিংটনের স্বেচ্ছা সিদ্ধান্ত নয়; বরং ইরান ও আইআরজিসির সামরিক সক্ষমতার ফল।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফাদাভি বলেন, “আমেরিকানরা আমাদের সীমান্ত থেকে এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে পালিয়ে গেছে। এটি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত ছিল না; বরং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ও আইআরজিসির শক্তির ফল।”
তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমানে পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালী, ওমান সাগর কিংবা উত্তর ভারত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নৌযান নেই। ফাদাভির ভাষ্য, আইআরজিসির হামলার মুখে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো “শতভাগ অরক্ষিত” অবস্থায় রয়েছে। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
হরমুজ প্রণালী এখনও তেহরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও দাবি করেন ফাদাভি। তাঁর ভাষ্য, আইআরজিসি নৌবাহিনী প্রণালীর দক্ষিণ দিকের যুক্তরাষ্ট্র-তত্ত্বাবধানে থাকা রুট ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকে সতর্ক করেছে যে, যেকোনো সময় সেগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।
তিনি দাবি করেন, ওই পথে বর্তমানে দৈনিক মাত্র ৩০ থেকে ৪০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হচ্ছে, যা যুদ্ধের আগের তুলনায় ‘নগণ্য’। তবে জাহাজ চলাচলের স্বাধীন তথ্য বলছে, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্যের মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানি কয়েক দিনে যুদ্ধপূর্ব পর্যায়ও ছাড়িয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ফাদাভির এসব মন্তব্য সামনে এলো। হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের জলপথে সামরিক উপস্থিতি এবং তেল পরিবহন নিয়ে দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবি অব্যাহত রয়েছে।


