...|...|...

বিশ্ব

ইরানের সাথে বাণিজ্যপথ বন্ধ করল পাকিস্তান

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৫৬
Shares
ইরানের সাথে বাণিজ্যপথ বন্ধ করল পাকিস্তান

ছবি: সংগৃহীত

নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা জানিয়ে ইরানের সাথে দুটি সীমান্তপথে বাণিজ্য কার্যক্রম স্থগিত করেছে পাকিস্তান। দেশটির গাবদ-রিমদান ও তাফতান সীমান্ত দিয়ে আপাতত আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। এতে সীমান্তের দুই পাশে পণ্যবাহী শত শত যানবাহন আটকা পড়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন জানায়, দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শুক্রবার এ বিষয়ে একটি স্মারকলিপি জারি করেছে। এতে ৩ অক্টোবর জারি করা আগের আদেশ প্রত্যাহার করে বাণিজ্য কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।

বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রীর গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা শহীদ রিন্দ জানান, নিরাপত্তা উদ্বেগ নিরসন, চোরাচালান রোধ এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবে কান না দিতে জনসাধারণের প্রতি আহ্বানও জানান তিনি।

শহীদ রিন্দ বলেন, সীমান্তের উভয় পাশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার উন্নয়নে এ সিদ্ধান্ত জরুরি ছিল। সীমান্তসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে দুই দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। পরিস্থিতির অগ্রগতি বিবেচনায় শিগগিরই সীমান্ত খুলে দেওয়া হতে পারে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই সীমান্ত বন্ধের বিষয়টি সাময়িক বলে জানিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি এ পরিস্থিতির জন্য কারিগরি জটিলতাকে দায়ী করেন। স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়ে দুই দেশ আলোচনা করছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, কোয়েটা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা ব্যবসায়ীদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন আমদানি-রপ্তানি আদেশ না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এলপিজি, চাল, তাজা ফলসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী শত শত যানবাহন সীমান্তের উভয় পাশে আটকে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

তবে ইরানভিত্তিক সংবাদ সংস্থা ওয়ানার তথ্য অনুযায়ী, রিমদান-গাবদ সীমান্ত দিয়ে যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সীমান্তের বাণিজ্যিক কার্যক্রমই বন্ধ রাখা হয়েছে।

পাকিস্তানের জ্বালানি সরবরাহে গাবদ-রিমদান সীমান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ পথ দিয়ে প্রতিদিন চার হাজার টনের বেশি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি করা হতো। পাশাপাশি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানে পাকিস্তানের চালসহ বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানিও বেড়েছিল।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও বাণিজ্য সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, সীমান্ত বন্ধ থাকলে পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে এলপিজির সরবরাহে সংকট তৈরি হতে পারে এবং খোলা বাজারে দাম বাড়তে পারে। দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা জাতীয় রাজস্ব ও সীমান্তনির্ভর ব্যবসার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এর আগে চলতি বছরের মার্চ থেকে পাকিস্তান ও ইরান সীমান্ত বাণিজ্য সহজ করার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছিল। এর মধ্যে ছিল শুল্ক প্রক্রিয়া সহজ করা, তাফতানকে আনুষ্ঠানিক শুল্ককেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং নতুন ট্রানজিট পথ চালুর পরিকল্পনা।

আগস্টের শুরুতে ইরানের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী মোহাম্মদ আতাবাকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল পাকিস্তান সফর করে। ইসলামাবাদে পাকিস্তান-ইরান যৌথ বাণিজ্য কমিটির দশম অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিনিধি দলটি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গেও বৈঠক করে। ওই বৈঠকে সীমান্তপথ ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা, পরিবহনব্যবস্থার উন্নয়ন ও শুল্ক প্রক্রিয়ায় সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছিল।

তবে সীমান্ত বাণিজ্যে এর আগেও বিঘ্ন ঘটেছে। গোয়াদর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি জিয়ান্দ হুতের মতে, পাঞ্জগুর ও মান্দ-রাদিগ সীমান্তপথে দুর্বল সড়ক অবকাঠামো এবং অগ্নিসংযোগ ও যানবাহন পোড়ানোর মতো ঘটনার কারণে বাণিজ্য কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে।