...|...|...

বিশ্ব

হরমুজে মাইন বিস্ফোরণে দুই তেলবাহী ট্যাঙ্কারে আগুন

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৩২ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৪০
Shares
হরমুজে মাইন বিস্ফোরণে দুই তেলবাহী ট্যাঙ্কারে আগুন

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালীতে নৌ-মাইনে আঘাত লেগে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে আগুন ধরে গেছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। প্রতিটি ট্যাঙ্কারে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা আইআরজিসির বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

আইআরজিসি জানায়, একটি ট্যাঙ্কার নৌ-মাইনে আঘাত করলে বিস্ফোরণ ঘটে এবং এতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, দ্বিতীয় ট্যাঙ্কারটিও মাইনে আঘাত পেয়ে আগুনে পুড়তে থাকে।

তাৎক্ষণিকভাবে ট্যাঙ্কার দুটির নাম কিংবা সেগুলোতে থাকা তেলের উৎস সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইরনার দাবি, জাহাজ দুটি নিজেদের অবস্থান নির্ণয়কারী ও রাডার ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছিল। একই সঙ্গে ইরানের অনুমোদনহীন একটি পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, একটি ট্যাঙ্কার যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় প্রণালীটি অতিক্রমের চেষ্টা করছিল, অন্যটি অকেজো হয়ে পড়েছিল।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে তেহরান। ইরানের দাবি, এই জলপথ দিয়ে চলাচল করতে হলে জাহাজগুলোকে তাদের অনুমতি নিতে হবে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হতো।

এ সপ্তাহে আইআরজিসির নৌ-কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী আজমায়ি সতর্ক করে বলেন, যেসব জাহাজ তাদের নেভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ রাখবে, সেগুলোকে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অন্যদিকে, ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রও নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে।

এর আগে ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ওমান উপসাগরে ইরানের নিষিদ্ধ এলাকায় দুটি ট্যাঙ্কারে আগুন লাগে। সামুদ্রিক পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সৌদি আরবের উপকূলসংলগ্ন উপসাগরীয় জলসীমায় আরও দুটি ট্যাঙ্কারে আঘাতের ঘটনা ঘটে।

নিরাপত্তা সংস্থা ভ্যানগার্ড, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) ও যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক সংস্থা ইউকেএমটিওর তথ্য অনুযায়ী, গত রবিবার হরমুজ প্রণালীতে বা এর কাছাকাছি ছয়টি জাহাজে হামলা হয়। যুদ্ধ শুরুর পর এক দিনে এত বেশি জাহাজে হামলার ঘটনা এটিই প্রথম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত দুই সপ্তাহে এ অঞ্চলে জাহাজে হামলার ঘটনা বেড়েছে। ইরানের ভাষ্য, দেশটির বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও গত মাসে আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞার জবাবে হামলা জোরদার করা হয়েছে।

জ্বালানিবিষয়ক তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রায় ২ কোটি ৮ লাখ ব্যারেল তেল পরিবাহিত হয়েছিল। ১১ অক্টোবর তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ২৯ লাখ ব্যারেলে। এই বিঘ্নের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। বৃহস্পতিবার নিউজম্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তিনি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবেন না। ইরানে স্থলবাহিনী পাঠানোর পরিকল্পনাও নেই বলে জানান তিনি। ট্রাম্পের আশা, ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে।