ইরানের সাথে জ্বালানি বাণিজ্য কমাতে ইরাকের ওপর চাপ আরও তীব্র করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ ও জ্বালানি বাণিজ্য সীমিত করার কঠোর ঘোষণা আসায় বাগদাদের জন্য পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। ইরাকি বার্তাসংস্থা শাফাক নিউজ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
ইরাকের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা দীর্ঘকাল ধরে ইরানের প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। দেশটি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সচল রাখতে নিয়মিত ইরান থেকে গ্যাস আমদানি করে থাকে। কোনো কোনো সময়ে মোট চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত মেটানো হয় এই আমদানিকৃত গ্যাস দিয়ে।
ইরান থেকে গ্যাস সরবরাহে সামান্য ব্যাঘাত ঘটলেই হাজার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যায়। অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিশেষ ছাড়ের আওতায় এই বাণিজ্য চললেও বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্ভরতা কমানো ইরাকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংকট উত্তরণে ইরাক নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উন্নয়ন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে বিদ্যুৎ সংযোগ বৃদ্ধি এবং বিকল্প জ্বালানি উৎস খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ইরান থেকে প্রতি বছর প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি ডলারের গ্যাস আমদানি করে থাকে ইরাক।
শুধু ইরাক নয়, ইরানের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা বিশ্বের অন্যান্য দেশের ওপরও মার্কিন চাপ অব্যাহত রয়েছে। ইরানের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেলের ক্রেতা হিসেবে চীন নিয়মিত উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ইরানি তেল আমদানি করে আসছে। এছাড়া তুরস্ক ও ইরানের বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি ডলার, যার বড় একটি অংশই জ্বালানি খাতের সাথে জড়িত।
সংযুক্ত আরব আমিরাত দীর্ঘকাল ধরে ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করলেও সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে এই সম্পর্কে কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার জেরে ভারতের সাথে ইরানের বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেলেও পরিস্থিতির সাপেক্ষে তেল আমদানির তৎপরতা দেখা গেছে। পাশাপাশি, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়ে ইরান ও রাশিয়া নিজেদের মতো করে বিকল্প বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে।



