ইরানের অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি সচল রয়েছে এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদনের প্রয়োজনীয় কোনো ক্ষেত্রেই ঘাটতি নেই বলে দাবি করেছেন ইসলামিক রেভোলিউশন গার্ডস কর্পসের (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডারের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী বালালি। দেশটির সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি জানায়, শনিবার (৩ অক্টোবর) এক বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বালালি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় স্থাপনা, যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম ইরানেই তৈরি করা হয়। তাঁর দাবি, এসব প্রযুক্তির কিছু অংশ বিদেশে রপ্তানির সক্ষমতাও রয়েছে দেশটির।
আইআরজিসির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ভিত্তিতে ইরান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন উৎপাদন এবং মহাকাশ খাতেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। তাঁর ভাষ্য, ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে ইরান এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এ খাতে আর বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন নেই।
বালালি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তৈরি ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোনের নকশা অনুসরণ করেছে। তবে এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। তিনি বলেন, ইরানের বর্তমান অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দেশটিকে প্রয়োজন অনুযায়ী দীর্ঘ সময় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়।
তিনি আরও জানান, ইরান নিজেদের সামরিক চাহিদা ও যুদ্ধক্ষেত্রের প্রয়োজন বিশ্লেষণ করেই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় নতুন উদ্ভাবন চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁর মতে, নকশা থেকে উৎপাদন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া দেশের ভেতরে সম্পন্ন হওয়ায় দ্রুত পরিবর্তন ও উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে।
এই বক্তব্য এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন ইরান, হংকং ও পাকিস্তানের ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়; তাদের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরক্ষা সরবরাহ ব্যবস্থায় সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।


