ইয়েমেনের তেল ও গ্যাস সমৃদ্ধ প্রদেশ শাবওয়ায় সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সামরিক প্রশিক্ষণ শিবিরে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৫৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই শতাধিক সেনা।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত সেপ্টেম্বরে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর এটিই হুথি ও সৌদি সমর্থিত জোটের মধ্যে একক হামলায় সবচেয়ে বড় প্রাণহানির ঘটনা।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, নতুন সেনাসদস্যদের কুচকাওয়াজ ও প্রশিক্ষণ চলাকালে আল-আলাম প্রশিক্ষণ ক্যাম্প লক্ষ্য করে পরপর তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে হুথিরা। নিহত ও আহতদের বড় একটি অংশই তরুণ ও নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সেনা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে হামলার দায় স্বীকার করেছেন হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি। তিনি জানান, সৌদি সামরিক বাহিনী পরিচালিত একটি সেনা ক্যাম্প লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে হুথি বাহিনী। তবে এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় আহত ২০০ জনেরও বেশি সেনাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আহতদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি এই হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী কাজ’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। হুতিদের এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর ও উপযুক্ত জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
উল্লেখ্য, এডেন উপসাগরের তীরে অবস্থিত শাবওয়া প্রদেশটি ইয়েমেনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সমৃদ্ধ অঞ্চল। ইয়েমেনের সর্ববৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান ‘বালহাফ এলএনজি প্ল্যান্ট’ এই প্রদেশেই অবস্থিত। চলতি মাসেই ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী হুথিদের দখলে থাকা এলাকা পুনর্দখলে অভিযান শুরু করার পর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র রূপ নেয়


