সীমান্ত সুরক্ষার কথা বলে ইরানের সাথে থাকা প্রধান সীমান্তগুলোতে বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থগিত করেছে পাকিস্তান। তবে তেহরান একে ‘যান্ত্রিক ত্রুটি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। চলমান এই উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে ইসলামাবাদ।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেলুচিস্তান প্রদেশের তাফতান এবং গাবদ-রিমদান সীমান্ত ক্রসিংয়ে ইরানের সাথে বাণিজ্য স্থগিত করেছে পাকিস্তান। এর ফলে উভয় সীমান্তেই শত শত পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়েছে। প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-এর তথ্য অনুযায়ী, দুই দিক মিলে প্রায় দুই হাজার ট্রাক বর্তমানে আটকে রয়েছে। তবে ইরানি বার্তা সংস্থা ডব্লিউএএনএ জানিয়েছে, গাবদ-রিমদানে যাত্রী পারাপার এখনও স্বাভাবিক রয়েছে।
পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা না হলেও বেলুচিস্তান কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন সূত্র ভিন্ন ভিন্ন কারণ তুলে ধরেছে। তাফতান সীমান্ত অবস্থিত এমন চাগাই জেলার ডেপুটি কমিশনার বখতিয়ার ইসমাইল এক্সে লিখেছেন, সীমান্ত বন্ধ রাখা একটি অস্থায়ী পদক্ষেপ, যা মূলত সন্ত্রাসবিরোধী প্রচেষ্টাকে সমর্থন করতে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা উন্নত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অনুকূলে এলেই সীমান্ত খুলে দেওয়া হবে। বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমবিষয়ক উপদেষ্টা শহীদ রিন্ডও একই সুরে জানান যে, নিরাপত্তা শঙ্কা মোকাবিলা, চোরাচালান রোধ এবং সীমান্ত ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা-কে বলেছেন, কিছু নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত সমস্যা এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কারণে আন্তঃসীমান্ত চলাচল ও লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
কোয়েটার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ইমতিয়াজ বেলুচ আল-জাজিরাকে জানান, নিরাপত্তা কেবল একটি কারণ হতে পারে, তবে এর পেছনে বৃহত্তর কৌশলগত বিবেচনাও রয়েছে। বিশেষ করে ইরানের ওপর মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি এখানে প্রভাব ফেলতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য কৌশলগত স্টাডিজ কেন্দ্রের ফার্সি উপসাগরীয় স্টাডিজ গ্রুপের প্রধান জাভেদ হেইরান-নিয়া বলেন, তেহরানের এই বিবৃতির পেছনে সীমান্ত ক্রসিংয়ের প্রশাসনিক সমস্যা, কাস্টমস প্রক্রিয়া, আর্থিক লেনদেন কিংবা কঠোর নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণও জড়িত থাকতে পারে।


