...|...|...

বিশ্ব

ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৪৭

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ২:২৮ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১:৩৬
Shares
ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৪৭

ছবি: সংগৃহীত

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

শনিবার ভোরে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের পর কয়েক দফা আফটারশক অনুভূত হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের নাগেকেওতে এখনো উদ্ধারকারী দল পুরোপুরি পৌঁছাতে পারেনি। ভূমিধসে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভূমিকম্পের সময় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পূর্ব নুসা তেংগারার তালিবুরা গ্রামের বাসিন্দা নোনা বলেন, কম্পনের সময় ঘরের ভেতরে থাকা ১৩ জনই জীবন বাঁচাতে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন।

ভূমিকম্পের পর দেশটির কয়েকটি উপকূলীয় এলাকায় এক মিটারের কম উচ্চতার সুনামি ঢেউ রেকর্ড করা হয়। তবে প্রায় তিন ঘণ্টা পর সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

উদ্ধারকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ফ্লোরেস দ্বীপের সিক্কা রিজেন্সির প্রধান শহর মাউমেরেতে উদ্ধারকারীরা ২০ জনের লাশ, ছয়জন আহত ব্যক্তি এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা দুইজনকে উদ্ধার করেন।

জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, নাগেকেও এলাকার প্রায় ২ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাড়িঘর, গুদাম ও সরকারি স্থাপনা। কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা ও যান চলাচলে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ১৫৭টি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৪১টি বাড়ি মাঝারি এবং ১৪৮টি বাড়ি সামান্য ক্ষতির শিকার হয়েছে। পাশাপাশি ৮৭টি স্কুল, ১৮টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, পাঁচটি উপাসনালয় ও ছয়টি সরকারি অফিস ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের গভর্নর ইমানুয়েল মেলকিয়াদেস লাকা লেনা জানান, ঘুমের মধ্যে ভবন ধসে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার ভূতত্ত্ব সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫৮ মিনিটে ভূ-পৃষ্ঠের ১৫ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়। এরপর বেশ কয়েকটি আফটারশক অনুভূত হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, ফ্লোরেস দ্বীপের মাউমেরে শহরে একটি ভবনের অংশ ধসে ধুলায় পরিণত হয়েছে। আতঙ্কিত মানুষজন নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।

ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল ‘প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত। টেকটোনিক প্লেটের সক্রিয় গতিবিধির কারণে দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।

এর আগে ২০১৮ সালে সুলাওয়েসি দ্বীপের পালু শহরে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প ও সুনামিতে ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন।