ইথিওপিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের জেরে ১৪ হাজারের বেশি মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশ কেনিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন। সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের সাথে যুক্ত কর্মকর্তারা। খবর আনাদোলুর।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) কর্মকর্তারা জানান, গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া সহিংসতার পর বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। বিবদমান গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ভারী অস্ত্রের ব্যবহার অব্যাহত থাকায় বহু বেসামরিক মানুষ প্রাণ বাঁচাতে কেনিয়ায় পালিয়ে যাচ্ছেন।
কেনিয়ার রেড ক্রসের আপার ইস্টার্ন অঞ্চলের প্রধান মালিক আদান সাংবাদিকদের বলেন, আশ্রয় নেওয়া মানুষের জন্য জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি প্রয়োজন। পাশাপাশি ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগের বিস্তার ঠেকাতে স্বাস্থ্যসম্মত উপকরণ ও আরও শৌচাগারের ব্যবস্থা করা জরুরি।
কেনিয়ার রেড ক্রস জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী ময়ালে শহরের ছয়টি অস্থায়ী শিবিরে ১০ হাজার ৯০০-এর বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষকে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় চার হাজার মানুষ আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় পরিবারের সঙ্গে আশ্রয় নিয়েছেন।
এর আগে শুক্রবার মারসাবিত কাউন্টির কমিশনার স্ট্যানলি কামান্দে জানিয়েছিলেন, সংঘর্ষ শুরুর পর দুই হাজারের বেশি ইথিওপীয় কেনিয়ায় প্রবেশ করেছেন। পরবর্তী এক দিনে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
ইথিওপিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী ওরোমো ও সোমালি সম্প্রদায়ের মধ্যে এ সংঘর্ষ চলছে। ওরোমিয়া প্রশাসনের অধীন একটি এলাকায় সোমালি আঞ্চলিক রাজ্যের পতাকা প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। ওরোমিয়া ও সোমালি দুটিই ইথিওপিয়ার ফেডারেল অঞ্চল।
মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুক্রবার অন্তত নয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। তবে সংঘর্ষ অব্যাহত থাকায় নিহতের সংখ্যা ১২ ছাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের উভয় পক্ষের মধ্যে ভারী গোলাগুলি ও শেল নিক্ষেপ চলছে। এতে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সহিংসতা থেকে বাঁচতে অনেকেই সীমান্ত পেরিয়ে কেনিয়ায় আশ্রয় নিচ্ছেন।
কেনিয়ার রেড ক্রস ইতোমধ্যে বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে তাঁবু, কম্বল, ঘুমানোর মাদুর ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী বিতরণ করেছে। পাশাপাশি শিশু ও স্তন্যদানকারী মায়েদের পুষ্টিসহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত খাদ্যসহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সহায়তার মধ্যে চাল ও শিমজাতীয় খাবার রয়েছে। তবে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় বিদ্যমান সহায়তা দিয়ে সবার প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবিক সহায়তা কর্মকর্তারা।
ইথিওপিয়া ও কেনিয়ার মধ্যে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তপথ ময়ালে শহরটি কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি থেকে সড়কপথে প্রায় ৭৮০ কিলোমিটার উত্তরে এবং ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবা থেকে প্রায় ৭৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত।
সংঘর্ষের কারণে দুই দেশের মধ্যে সীমান্তবাণিজ্যও ব্যাহত হচ্ছে। সহিংসতা দীর্ঘায়িত হলে আরও মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


