ফুটবল মাঠ মানেই শুধু গোল আর জয়ের লড়াই নয়, এর সাথে জড়িয়ে থাকে কোটি সমর্থকের আবেগ, ভালোবাসা ও স্মৃতি। ঐতিহাসিক ম্যাচ, কিংবদন্তি খেলোয়াড়দের কীর্তি এবং দর্শকদের উন্মাদনায় বিশ্বের বেশ কয়েকটি স্টেডিয়াম পেয়েছে বিশেষ পরিচিতি।
ইংল্যান্ড, স্পেন, ইতালি, জার্মানি, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনায় ছড়িয়ে রয়েছে এসব বিখ্যাত ফুটবল ভেন্যু। দর্শক ধারণক্ষমতা, স্থাপত্য ও ঐতিহ্যের দিক থেকে আলাদা অবস্থান তৈরি করা এমন ১০টি স্টেডিয়াম ।
১. ওয়েম্বলি স্টেডিয়াম, ইংল্যান্ড
দর্শক ধারণক্ষমতা: ৯০ হাজার
লন্ডনের ওয়েম্বলি ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হোম ভেন্যু। বিশ্বকাপ ও ইউরো ফাইনালসহ বহু ঐতিহাসিক ম্যাচ আয়োজন করেছে স্টেডিয়ামটি। ২০০৭ সালে পুরোনো স্টেডিয়ামের জায়গায় নতুন ওয়েম্বলি নির্মিত হয়।
২. সান্তিয়াগো বার্নাব্যু, স্পেন
দর্শক ধারণক্ষমতা: ৮৫ হাজার
মাদ্রিদে অবস্থিত সান্তিয়াগো বার্নাব্যু রিয়াল মাদ্রিদের ঘরের মাঠ। ১৯৪৭ সাল থেকে ক্লাবটির হোম ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এটি। চ্যাম্পিয়নস লিগের একাধিক ফাইনালসহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের সাক্ষী এই স্টেডিয়াম।
৩. ওল্ড ট্রাফোর্ড, ইংল্যান্ড
দর্শক ধারণক্ষমতা: ৭৪ হাজার ৩১০
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মাঠ ওল্ড ট্রাফোর্ড পরিচিত ‘স্বপ্নের রঙ্গমঞ্চ’ নামে। ১৯১০ সালে নির্মিত এই স্টেডিয়াম ক্লাবটির বহু সাফল্য ও ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী। সমর্থকদের আবেগের কারণেও বিশ্বজুড়ে পরিচিত এটি।
৪. ক্যাম্প ন্যু, স্পেন
পরিকল্পিত দর্শক ধারণক্ষমতা: ১ লাখ ৫ হাজার
বার্সেলোনার ঐতিহাসিক মাঠ ক্যাম্প ন্যু। লিওনেল মেসিসহ বহু কিংবদন্তি ফুটবলারের স্মরণীয় পারফরম্যান্সের সাক্ষী এই স্টেডিয়াম। সংস্কার শেষে এর ধারণক্ষমতা ১ লাখ ৫ হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
৫. সান সিরো, ইতালি
দর্শক ধারণক্ষমতা: ৭৫ হাজার ৮১৭
ইতালির মিলানে অবস্থিত সান সিরো এসি মিলান ও ইন্টার মিলানের যৌথ হোম ভেন্যু। এর আনুষ্ঠানিক নাম স্তাদিও জিউসেপ্পে মিয়াচ্চা। বিশ্বকাপ ও ইউরোর ম্যাচসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ ফুটবল আয়োজনের স্মৃতি রয়েছে এই মাঠে।
৬. অ্যানফিল্ড, ইংল্যান্ড
দর্শক ধারণক্ষমতা: ৬১ হাজার ২৭৬
লিভারপুলের ঘরের মাঠ অ্যানফিল্ড নির্মিত হয় ১৮৮৪ সালে। গ্যালারিভর্তি সমর্থকদের উন্মাদনা এবং বিখ্যাত ‘ইউ উইল নেভার ওয়াক অ্যালোন’ গান স্টেডিয়ামটিকে দিয়েছে আলাদা পরিচিতি।
৭. মারাকানা স্টেডিয়াম, ব্রাজিল
দর্শক ধারণক্ষমতা: ৭৮ হাজার ৮৭৮
ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে অবস্থিত মারাকানা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিখ্যাত স্টেডিয়াম। ১৯৫০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালসহ বহু স্মরণীয় ম্যাচ এখানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্রাজিলের ফ্লামেঙ্গো ও ফ্লুমিনেন্সের হোম ভেন্যুও এটি।
৮. লা বোম্বোনেরা, আর্জেন্টিনা
দর্শক ধারণক্ষমতা: ৫৭ হাজার ২০০
বুয়েনস এইরেসে অবস্থিত বোকা জুনিয়র্সের মাঠ লা বোম্বোনেরা। বিশেষ আকৃতি ও সমর্থকদের প্রচণ্ড উন্মাদনার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই স্টেডিয়াম। আর্জেন্টাইন ফুটবল সংস্কৃতির অন্যতম প্রতীক এটি।
৯. আলিয়াঞ্জ অ্যারেনা, জার্মানি
দর্শক ধারণক্ষমতা: ৭৫ হাজার ২৪
মিউনিখে অবস্থিত বায়ার্ন মিউনিখের হোম ভেন্যু আলিয়াঞ্জ অ্যারেনা। ২০০৫ সালে নির্মিত স্টেডিয়ামটির বাইরের অংশ বিভিন্ন রঙে আলোকিত করা যায়। আধুনিক স্থাপত্য ও নকশার কারণে এটি ইউরোপের অন্যতম আকর্ষণীয় ফুটবল ভেন্যু।
১০. সিগনাল ইদুনা পার্ক, জার্মানি
দর্শক ধারণক্ষমতা: ৮১ হাজার ৩৬৫
ডর্টমুন্ডে অবস্থিত বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের মাঠ সিগনাল ইদুনা পার্ক। ‘হলুদ প্রাচীর’ নামে পরিচিত গ্যালারিতে সমর্থকদের উন্মাদনা স্টেডিয়ামটিকে দিয়েছে অনন্য পরিচিতি। বড় ম্যাচে এখানকার পরিবেশ ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়।
এ ছাড়া মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামও বিশ্বের অন্যতম আইকনিক ফুটবল ভেন্যু। ১৯৭০ ও ১৯৮৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল আয়োজনের পাশাপাশি পেলে ও ম্যারাডোনার স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে আছে এই মাঠ।



