...|...|...

বিশ্ব

আরব দলগুলোর রেকর্ড সাফল্য, ‘ভোট চুরির’ অভিযোগ নেতানিয়াহুর দলের

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ভোর রাত ৫:৪৪ | আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৮:০১
Shares
আরব দলগুলোর রেকর্ড সাফল্য, ‘ভোট চুরির’ অভিযোগ নেতানিয়াহুর দলের

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর বড় সাফল্যের আভাস পাওয়ার পর ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলেছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি। দলটির দাবি, নির্বাচনে অনিয়ম, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। এসব অভিযোগ তদন্তে পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা।

টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবারের নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন রা’আম ও জয়েন্ট লিস্ট দল উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোট পেয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ১২০ আসনের নেসেটে দল দুটি সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেতে পারে। তাদের বর্তমান সম্মিলিত আসনসংখ্যা ১০ হওয়ায় এবারের ফলকে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরব দলগুলোর এই সাফল্য ইসরায়েলে সরকার গঠনের হিসাবকে জটিল করে তুলেছে। কারণ, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন থেকে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট এবং বিরোধী শিবির-উভয় পক্ষই পিছিয়ে রয়েছে। ফলে নতুন সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বুধবার এক বিবৃতিতে লিকুদ পার্টি অভিযোগ করে, আরব দলগুলো নির্বাচনে অনিয়ম করেছে। ভোটারদের অর্থ দেওয়ার প্রলোভন, হুমকি, সহিংসতা, জাল ভোট এবং অবৈধ সফটওয়্যার ব্যবহারের মতো অভিযোগও তুলেছে দলটি।

লিকুদের দাবি, এসব অভিযোগের সমর্থনে শত শত প্রমাণ পুলিশ, শিন বেত ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। নগদ অর্থভর্তি খাম, জাল ভোট এবং ভোটকেন্দ্রে সহিংসতার অভিযোগও এর মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছে দলটি।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। তাই অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত অনিয়ম হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

লিকুদ পার্টি তদন্তের দাবি জানালেও কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা আগেই টেলিভিশন চ্যানেল ১২-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জালিয়াতির অভিযোগ নাকচ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কমিশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিটি নির্বাচনের মতো এবারও নির্বাচনের স্বচ্ছতা বা ফলাফল নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর উত্থাপিত অভিযোগ নিয়ম অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

এদিকে, ইসরায়েলের কয়েকটি হিব্রু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, নির্বাচনে প্রত্যাশিত আসন না পেলে লিকুদ পার্টি আরব অধ্যুষিত এলাকার ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করতে পারে। তবে এ বিষয়ে দলটির কোনো পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৮৫ শতাংশের বেশি ভোট গণনা শেষে পাওয়া হিসাব অনুযায়ী, জয়েন্ট লিস্ট ১২টি এবং রা’আম সাতটি আসন পেতে পারে। একই সময়ে নেতানিয়াহুর জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৫৩ এবং গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবিরের আসনসংখ্যা ৪৮ বলে ধারণা করা হচ্ছিল।

এই পরিস্থিতিতে সরকার গঠনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আরব দলগুলোর সমর্থন কোন পক্ষ পাবে, তার ওপরও নতুন সরকারের সম্ভাব্য কাঠামো নির্ভর করতে পারে।

রা’আম দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা ইয়োভ সেগালোভিৎজ জানিয়েছেন, তার দল পরবর্তী জোট সরকারের অংশ হতে আগ্রহী। তবে সরকারপ্রধান হিসেবে যাকে মনোনীত করা হবে, তাকে আরব ভোটারদের স্বার্থ ও দাবির বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।