প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের (ডিজিএফআই) সদরদফতরে অবস্থিত বহুল আলোচিত গোপন বন্দিশালা ‘জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল’ (জেআইসি) পরিদর্শনে যাবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক, প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
শনিবার (৮ আগস্ট) বেলা ১১টায় ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত এই বন্দিশালাটি পরিদর্শন করবেন তারা।
বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলে অবৈধভাবে আটকে রাখা ও নির্যাতনের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই গোপন বন্দিশালাটি সাধারণ মানুষের কাছে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত। এখানে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
উক্ত মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের তালিকায় ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচজন মহাপরিচালক এবং পাঁচজন পরিচালক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ডিজিএফআইয়ের সাবেক তিন পরিচালক- মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী ইতোমধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন।
তদন্তের অংশ হিসেবে মামলার নিরপেক্ষ ও প্রত্যক্ষ প্রমাণ সংগ্রহেই আজকের এই পরিদর্শন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে গত ১ আগস্ট র্যাবের গোপন বন্দিশালা হিসেবে পরিচিত ‘টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন’ (টিএফআই) সেলও একইভাবে পরিদর্শন করেছিলেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও আইনজীবী দল।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১ আগস্ট রাজধানীর উত্তরায় র্যাব-১ সদর দফতরে থাকা টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল বা ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করেন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক ও প্রসিকিউটররা। সেদিন ছোট-বড় ২৯টি কক্ষ ঘুরে দেখেন তারা। পাশাপাশি সাতটি ডেথ সেলও পরিদর্শন করেন এবং সেখানে বন্দিদের আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে ধারণা নেন।
এর আগে গত ২১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব, ডিজিএফআই ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেয় ট্রাইব্যুনাল-১। ওই দিন শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে এসব বন্দিশালায় বিরোধী মতাদর্শের ব্যক্তিদের তুলে নিয়ে আটকে রাখা, নির্যাতন ও গুমের অভিযোগ তুলে ধরেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় এসব অভিযোগের সাথে সংশ্লিষ্ট স্থান ও স্থাপনার বাস্তব চিত্র পর্যালোচনার অংশ হিসেবেই ধারাবাহিকভাবে এসব বন্দিশালা পরিদর্শন করছে ট্রাইব্যুনাল।



