...|...|...

জাতীয়

আইজিপির বক্তব্যের পক্ষে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:০৪ | আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:১৩
Shares
আইজিপির বক্তব্যের পক্ষে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন

ছবি: সংগৃহীত

পুলিশের আইনানুগ ক্ষমতা প্রয়োগ, অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীর সদস্যদের দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএসএ)। সংগঠনটি বলছে, আইনের সীমার মধ্যে থেকে পেশাদারত্ব ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের বিষয়টিই পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের বক্তব্যের মূল তাৎপর্য।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ অবস্থান জানায় সংগঠনটি। বিবৃতিতে সই করেন অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিবর্তিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মব কালচারের মধ্যে জননিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) পুরান ঢাকার চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংকের একটি শাখা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইজিপির দেওয়া বক্তব্যকে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের আলোকে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের মতে, আইন মেনে পরিস্থিতি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া এবং পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা ও পেশাগত আত্মবিশ্বাস বজায় রাখাই এ বক্তব্যের মূল বিষয়।

বিপিএসএ জানায়, সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুসারেই পুলিশ কাজ করে। দণ্ডবিধি, ফৌজদারি কার্যবিধি, পুলিশ আইন এবং পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গলসহ বিভিন্ন আইন ও বিধিবিধানে বাহিনীর ক্ষমতা ও দায়িত্ব নির্ধারিত রয়েছে। এসব আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানবাধিকার, সাংবিধানিক অধিকার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেও পুলিশ অঙ্গীকারবদ্ধ।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পুলিশের আইনানুগ কঠোরতাকে নেতিবাচকভাবে দেখা এবং অপরাধ দমনে নিষ্ক্রিয়তাকে দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করার প্রবণতা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ১০ মাসে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় চারজন পুলিশ সদস্য নিহত এবং ৩৭০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

সংগঠনটির মতে, এ পরিসংখ্যান পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা ও উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে পুলিশ সদস্যরা যেন নির্ভয়ে, নিরপেক্ষভাবে এবং পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

বিবৃতিতে বলা হয়, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে শক্তিশালী আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা অপরিহার্য। জনগণ পুলিশের কাছে জানমালের নিরাপত্তা, অপরাধ দমন, ন্যায়বিচার, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি প্রত্যাশা করে।

এ অবস্থায় আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগে অযথা দ্বিধা না করে দৃঢ়তা, পেশাদারত্ব ও মানবিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর জোর দিয়েছে সংগঠনটি। তাদের আশঙ্কা, অপরাধ দমনে পুলিশ অযথা দ্বিধাগ্রস্ত হলে অপরাধীরা উৎসাহিত হতে পারে, যা সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করবে।

বিপিএসএর ভাষ্য, আইনের সীমা অতিক্রম না করে দৃঢ়তা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনই পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়ানোর অন্যতম ভিত্তি। এ কারণে আইজিপির বক্তব্যকে আইন প্রয়োগ, অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের সক্ষমতা জোরদার করার সময়োপযোগী আহ্বান হিসেবে দেখছে সংগঠনটি।