...|...|...

তথ্যপ্রযুক্তি

অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের নতুন কৌশল, ঝুঁকিতে ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, সকাল ১০:৪০ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৩:৪৩
Shares
অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের নতুন কৌশল, ঝুঁকিতে ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও

ছবি: এআই জেনারেটেড

সাইবার অপরাধীদের একটি চক্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ব্যক্তিগত অনলাইন অ্যাকাউন্টে অনুপ্রবেশ করে ব্যবহারকারীদের স্পর্শকাতর ছবি ও ভিডিও চুরি করছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)।

সংস্থাটির ভাষ্যমতে, চুরি করা এসব কনটেন্ট পরবর্তীতে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে অথবা অবৈধ অনলাইন মার্কেটপ্লেসে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম পিসি ম্যাগের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এফবিআই জানিয়েছে, শুধু প্রাপ্তবয়স্করাই নন, অপ্রাপ্তবয়স্করাও এই আক্রমণের শিকারের একই ঝুঁকিতে রয়েছে। হ্যাকাররা প্রথমে ভুক্তভোগীর সামাজিক মাধ্যম বা অন্য কোনো ব্যক্তিগত অনলাইন অ্যাকাউন্টে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। সফল হলে অ্যাকাউন্টের ভেতরে থাকা ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও খুঁজে বের করে সেগুলো হাতিয়ে নেয়।

কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে চুরি করা কনটেন্ট

চুরি হওয়া ছবি-ভিডিও বিভিন্ন অনলাইন ফোরাম, কমিউনিটি বা অবৈধ মার্কেটপ্লেসে ছড়িয়ে দেওয়া কিংবা বিক্রি করার ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রে শুধু ছবিই নয়, ভুক্তভোগীর নাম, জন্মতারিখ, ই-মেইল ঠিকানা, ফোন নম্বর এবং সামাজিক মাধ্যমের ইউজারনেমের মতো ব্যক্তিগত তথ্যও প্রকাশ করে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে ভুক্তভোগীরা পরবর্তীতে আরও বড় ধরনের হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইলের মুখে পড়তে পারেন।

বিশেষত সেক্সটর্শনের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের চেষ্টা-অর্থাৎ ব্যক্তিগত ছবি ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে টাকা দাবি করার ঘটনাও ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছে এফবিআই।

এফবিআইয়ের বর্ণনা অনুযায়ী, হ্যাকাররা মূলত তিনটি পদ্ধতিতে অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করছে-

১. ফাঁস হওয়া পাসওয়ার্ড কাজে লাগানো: আগের বিভিন্ন ডেটা ব্রিচ বা তথ্য ফাঁসের ঘটনায় প্রকাশিত পুরোনো পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুমানের ভিত্তিতে অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করার চেষ্টা করা হয়।

২. ভুয়া গ্রাহকসেবা প্রতিনিধি সেজে যোগাযোগ: সামাজিক মাধ্যমের গ্রাহকসেবা কর্মী পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীকে বার্তা পাঠানো হয়, যেখানে বলা হয় তার অ্যাকাউন্ট বন্ধ বা লক হয়ে যাচ্ছে এবং তা সচল রাখতে একটি ভেরিফিকেশন কোড জানাতে হবে। ভুক্তভোগী কোডটি শেয়ার করলেই হ্যাকার পাসওয়ার্ড বদলে অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।

৩. ভুয়া ওয়েবসাইট ও ই-মেইল দিয়ে ফিশিং: আসল সামাজিক মাধ্যমের হুবহু নকল ওয়েবসাইট বা ই-মেইল তৈরি করে জানানো হয় যে নতুন কোনো ডিভাইস থেকে অ্যাকাউন্টে লগইন করা হয়েছে। এরপর ব্যবহারকারীকে প্রলুব্ধ করা হয় পাসওয়ার্ড দিতে- অথচ ওই ওয়েবসাইট বা ই-মেইল আসলে হ্যাকারদেরই নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ঝুঁকি এড়াতে এফবিআই কয়েকটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে-

  • সব অনলাইন অ্যাকাউন্টে মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (এমএফএ) চালু রাখা।
  •  অপরিচিত লিংক, ই-মেইল বা মেসেজে পাওয়া কোনো ভেরিফিকেশন কোড কারও সাথে শেয়ার না করা।
  • ক্লাউড স্টোরেজ বা ব্যক্তিগত ফোল্ডারে রাখা ছবি-ভিডিওর নিরাপত্তা নিয়ে সজাগ থাকা।

সংস্থাটির মতে, এই সাধারণ কয়েকটি সতর্কতা মেনে চললেই এ ধরনের হ্যাকিং ও তথ্য চুরির ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।