নারীদের এশিয়া কাপে আবারও শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরল ভারত। শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে রেকর্ড অষ্টমবারের মতো এশিয়া কাপের শিরোপা জিতেছে তারা। শুরুতেই শেফালি ভার্মা ও স্মৃতি মান্ধানার ব্যাটিং ঝড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় ভারত, পরে বোলারদের দাপটে নিশ্চিত করে বড় জয়।
রবিবার রাতে এশিয়া কাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামে ভারত। টস ও ম্যাচের অন্যান্য তথ্য অনুযায়ী শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলেছে ভারত। শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই আধিপত্য দেখিয়ে ৭২ রানের ব্যবধানে জয় তুলে নেয় তারা।
ওপেনিংয়ে নেমে শেফালি ও মান্ধানা মাত্র ১২.৫ ওভারে যোগ করেন ১২৯ রান। শেফালি শুরু থেকেই ছিলেন ভয়ংকর আক্রমণাত্মক। মাত্র ২৪ বলে ফিফটি তুলে নিয়ে নারী এশিয়া কাপের দ্রুততম অর্ধশতকের রেকর্ড গড়েন ২২ বছর বয়সী এই ব্যাটার। এর আগে ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই ২৫ বলে ফিফটি করে রেকর্ডটি গড়েছিলেন মান্ধানা।
শেফালি শেষ পর্যন্ত ৩৯ বলে ৬৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। তার ব্যাট থেকে আসে ৯টি চার ও ২টি ছক্কা। পাওয়ারপ্লেতে ভারত তোলে বিনা উইকেটে ৫৭ রান। চামারি আতাপাত্তুর এক ওভারে টানা তিনটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে শেফালি ভারতের ইনিংসের গতি আরও বাড়িয়ে দেন।
অন্য প্রান্তে শুরুতে কিছুটা ধীরগতিতে খেললেও পরে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন মান্ধানা। ৩৫ বলে ফিফটি পূর্ণ করে শেষ পর্যন্ত ৩৯ বলে ৫৯ রান করেন তিনি। ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ৩টি ছক্কা। ফলে ১৫ ওভার শেষে ২ উইকেটে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৪০ রান।
শেষ দিকে শ্রীলঙ্কার বোলাররা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে ফেরে। রিচা ঘোষ ১৭ রানে ফেরার পর ভারতের রান তোলার গতি কমে যায়। শেষ পাঁচ ওভারে ৪৩ রান তুললেও গুনালান কামালিনির ৫ বলে ১৫ রানের ঝড়ো ক্যামিওতে ৫ উইকেটে ১৮৩ রানের বড় সংগ্রহ পায় ভারত।
১৮৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কা। অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু অবশ্য ভিশমি গুনারত্নের সাথে দ্বিতীয় উইকেটে ৫৮ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তবে দশম ওভারে দীপ্তি শর্মার স্পেলেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়।
এগিয়ে এসে বড় শট খেলতে গিয়ে স্টাম্পড হন আতাপাত্তু। মাত্র তিন বল পর সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন গুনারত্ন। ১০ ওভারে ৩ উইকেটে ৬৩ রান তুলতেই শ্রীলঙ্কার প্রয়োজনীয় রানরেট ১২ ছাড়িয়ে যায়। এরপর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি তারা।
শেষ দিকে ভারতের বোলারদের সামনে শ্রীলঙ্কার লোয়ার অর্ডারও ব্যর্থ হয়। শ্রেয়া চারানি ২০ রানে ৪ উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষের ইনিংস গুটিয়ে দিতে বড় ভূমিকা রাখেন। শেষ পর্যন্ত ৭২ রানের জয় নিয়ে রেকর্ড অষ্টমবারের মতো এশিয়া কাপের শিরোপা ঘরে তোলে ভারত।


