সুশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা ও জনসেবা নিশ্চিতকরণে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়নে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
অর্থ বিভাগের মনিটরিং সেলের ‘Strengthening of State-owned Enterprises Governance’ শীর্ষক স্কিমের আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য বাছাই করা ৩০টি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার মধ্যে ৩ দশমিক ১৭ স্কোর পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছে বিটিআরসি।
বিটিআরসি জানায়, গত ৪ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেলের মহাপরিচালক রহিমা বেগম কমিশনের মহাপরিচালক মো. মেহেদী-উল-সহিদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেল এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত ‘Independent Performance Evaluation Committee (IPEC)’-এর তত্ত্বাবধানে এই মূল্যায়ন করা হয়। আর্থিক ব্যবস্থাপনা, করপোরেট সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, পরিচালন দক্ষতা এবং জনস্বার্থমূলক নীতি বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হয়।
বিটিআরসি জানিয়েছে, টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়ন ও গ্রাহকসেবার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আহরণেও কমিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিটিআরসির রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ওই অর্থবছরে ৪ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।
এ ছাড়া, প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বিটিআরসির রাজস্ব আহরণের মোট লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৫ হাজার ৮৮২ কোটি টাকা। এর বিপরীতে মোট ৮১ হাজার ৮৯১ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।
সুশাসন ও গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে বিটিআরসি বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণ, তরঙ্গ ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে নীতিমালা ও গাইডলাইন প্রণয়ন, ভয়েস ও ইন্টারনেট ট্যারিফ ব্যবস্থাপনা, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে ‘এক দেশ, এক রেট’ বাস্তবায়ন, গণশুনানি, কোয়ালিটি অব সার্ভিস (QoS) যাচাই এবং মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশন পরিমাপ উল্লেখযোগ্য।
এ ছাড়া ওয়ান-স্টপ সার্ভিস পরিচালনা, অবৈধ টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম প্রতিরোধে অভিযান এবং গ্রাহকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির মতো কার্যক্রমও পরিচালনা করছে কমিশন।
বিটিআরসি আরও জানায়, স্বচ্ছ লাইসেন্সিং ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো, গ্রাহক অধিকার ও অভিযোগ ব্যবস্থাপনা, সাশ্রয়ী মূল্য নির্ধারণ, অবকাঠামো ও নেটওয়ার্কের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের (SOF) মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে টেলিযোগাযোগ সেবা সম্প্রসারণের কাজও অব্যাহত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (ITU) ও এশিয়া-প্যাসিফিক টেলিকমিউনিটি (APT) এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে কাজ করে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিটিআরসি।

