সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিভিন্ন অ্যাপ ও ওয়েবসাইট এখন প্রতিদিনের জীবনের অংশ। ইন্টারনেট ব্যবহার যত বাড়ছে, অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকিও তত বাড়ছে। একটু অসতর্ক হলেই ছবি, ভিডিও, ফোন নম্বর বা ঠিকানা সাইবার অপরাধীদের হাতে পড়তে পারে। সেই তথ্য ব্যবহার করে তারা প্রতারণাসহ নানা অপরাধের ফাঁদ পাতে। এ থেকে বাঁচতে পাঁচটি বিষয়ে বাড়তি সতর্ক থাকা দরকার।
১. অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করবেন না
নিজের প্রতিটি পদক্ষেপের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন। বাসা বা কর্মস্থলের ঠিকানা, ফোন নম্বর, পরিবারের সদস্যদের তথ্য এবং ব্যক্তিগত জীবনের সংবেদনশীল বিষয় সবার জন্য খোলা রাখা নিরাপদ নয়। গোপনীয়তা সেটিংসে গিয়ে এসব তথ্য ‘পাবলিক’ না রেখে শুধু পরিচিতদের জন্য দৃশ্যমান করুন। কারণ প্রকাশ করা এসব তথ্য জোড়া দিয়েই অপরাধীরা একজনের অবস্থান ও পরিচয়ের আভাস পেতে পারে।
২. পিন, পাসওয়ার্ড ও ওটিপি কাউকে দেবেন না
ব্যাংক, বিকাশ, নগদ বা অন্য কোনো সেবা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা পরিচয়ে ফোন এলেও পিন, পাসওয়ার্ড, ওটিপি কিংবা লগইন কোড শেয়ার করবেন না। এসব তথ্য শুধু আপনার নিজের ব্যবহারের জন্য। কোনো বৈধ প্রতিষ্ঠান ফোন করে গ্রাহকের কাছে এ ধরনের গোপন তথ্য চায় না। এমন কল এলে কোনো তথ্য না দিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দিন।
৩. অচেনা ও লোভনীয় লিংকে ক্লিক করবেন না
অনলাইন প্রতারণার বড় হাতিয়ার ভুয়া লিংক। মেসেঞ্জার, মোবাইল বার্তা বা ই-মেইলে উপহার, বিশেষ ছাড় কিংবা জরুরি সতর্কবার্তার কথা বলে লিংক এলে যাচাই না করে ক্লিক করা ঠিক নয়। অপরাধীরা পরিচিত প্রতিষ্ঠানের নাম, লোগো ও ওয়েবসাইটের নকশা হুবহু নকল করে ভুয়া সাইট বানাতে পারে। সেখানে ঢুকলেই ব্যক্তিগত তথ্য চুরির আশঙ্কা থাকে। বার্তা সত্যি মনে হলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে নিন।
৪. আলাদা পাসওয়ার্ড দিন, চালু রাখুন দুই স্তরের নিরাপত্তা
সব অ্যাকাউন্টে এক পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা বড় ঝুঁকির কারণ। ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আর্থিক লেনদেনের অ্যাকাউন্টে আলাদা ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড রাখুন। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি অ্যাকাউন্টে দুই স্তরের যাচাই ব্যবস্থাও চালু করুন। এতে কোনোভাবে পাসওয়ার্ড অন্যের হাতে গেলেও অতিরিক্ত যাচাই ছাড়া অ্যাকাউন্টে ঢোকা কঠিন হবে।
৫. নিয়মিত সফটওয়্যার হালনাগাদ করুন
মোবাইল বা কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম কিংবা অ্যাপের নতুন সংস্করণ এলে তা ফেলে রাখবেন না। এসব হালনাগাদে অনেক সময় নিরাপত্তার ত্রুটি সারানো হয়, ফলে সাইবার ঝুঁকি কমে। একই সঙ্গে অপরিচিত বা অননুমোদিত ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপ বা সফটওয়্যার ডাউনলোড করবেন না।
সবার আগে সচেতনতা
অনলাইনে নিরাপদ থাকার মূল শর্ত সচেতনতা। অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ না করা, অচেনা লিংকে ক্লিক না করা এবং পিন, পাসওয়ার্ড ও ওটিপি গোপন রাখলেই সাইবার প্রতারণার ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে।


