...|...|...

সারাদেশ

অতীতের কথা ভুলে গেছে জামায়াত: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:১৫ | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১০:৩১
Shares
অতীতের কথা ভুলে গেছে জামায়াত: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ছবি: টাইমস টুডে

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে জামায়াতকে ‘অকৃতজ্ঞ’ দল হিসেবে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাঁশখালীতে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জামায়াতের দুই নেতাকে মন্ত্রী করেছিলেন। এর মাধ্যমে তাদের ‘রাজাকারের তকমা’ দূর করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু জামায়াত এখন সেসব কথা ভুলে গেছে।

মীর শাহে আলম বলেন, এই সরকার জনগণের সরকার, দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে নির্বাচিত। অথচ ছয় মাস না যেতেই তারা লংমার্চ করে সরকার পতনের হুমকি দিচ্ছে।

আগামী বছরের জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে তিনি দলের নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জনগণকে সাথে নিয়ে কাজ করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবার স্থানীয় নির্বাচন ও উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি একক প্রার্থীকে সমর্থন দেবে। যারা এর বিরোধিতা করবে বা বিদ্রোহী প্রার্থী হবে, তাদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

এনসিপি ও জামায়াতের সাথে আওয়ামী লীগের পুরোনো সম্পর্ক রয়েছে দাবি করে মীর শাহে আলম বলেন, ভারতে পলাতক নেতাদের সাথে তাদের যোগাযোগ থাকতে পারে। তাদের পুরোনো সম্পর্ক আবারও জোড়া লাগতে পারে। দেশে তারা বর্তমানে যে আন্দোলন করছে, তা আওয়ামী লীগকে সহায়তা করার শামিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

১১ দলীয় জোটের নেতাদের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তারা সংসদে এক কথা বললেও বাইরে আরেক কথা বলেন। তারা নানারকম অভিনয় করছেন। এনসিপির নেতাদের বয়স কম। অথচ তারা সম্মান দিয়ে রাজনৈতিক ভাষায় কথা বলেন না। তারেক রহমানকে নিয়ে বিশ্রী ভাষায় কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএনপি কারও হুমকিকে পরোয়া করে না। যারা গত নির্বাচনে বিএনপির সাথে বেঈমানি করেছে, দলে আর তাদের ঠাঁই হবে না।

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মীর শাহে আলম বলেন, দলের জন্য যারা দুঃসময়ে কাজ করেছেন, তারা ঠিকাদারিসহ বৈধ সব সুযোগ পাবেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গত জুলাইয়ে ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাঁশখালীতে প্রায় ১২ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ৫১০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ঘর নির্মাণের জন্য ৩০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীমকে ধন্যবাদ জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, পরিষদের পক্ষ থেকে ১ হাজার ১০০ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। আইনে কিছু বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যার জন্য আপনার অনুমোদন প্রয়োজন। আমি বলেছি, কাগজপত্র নিয়ে আসেন। আমি দুই ঘণ্টার মধ্যে অনুমোদন দিয়ে দেব।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার জনগণের সরকার। জনগণের জন্য যদি কোনো অন্যায় করতেও হয়, করব; জনগণের জন্য জেলে যেতে হলে জেলেও যাব।

অন্যদিকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যুৎ ব্যয় কমাতে বড় পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নেওয়ার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের স্থানীয় সরকার-সংশ্লিষ্ট ৬ হাজার ৫৪৪টি প্রতিষ্ঠানের ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রায় ৩৭০ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে জানান তিনি। আগামী ২৭ জানুয়ারি থেকে এসব সৌর প্যানেল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় মোট প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

উৎপাদিত বিদ্যুতের অর্ধেক, অর্থাৎ প্রায় ১৫০ মেগাওয়াট সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের কাজে ব্যবহার করবে। বাকি ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরকারের কাছে বিক্রি করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী।

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া, স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মনোয়ারা বেগম, জেলা প্রশাসক জাহিদুল হক মিয়া, পুলিশ সুপার মাসুদুল আলম, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী রওশন আলম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া, সদস্যসচিব লায়ন হেলাল উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন, সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মাহমুদুল হাসান, থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রবিউল হক, বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র কামরুল ইসলাম হোসাইনী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক চেয়ারম্যান মাস্টার লোকমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান ইব্রাহিমসহ স্থানীয় বিএনপি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।