বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশু-কিশোরদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। একসময় অভিভাবকদের প্রধান উদ্বেগ ছিল সন্তানরা ঘরের বাইরে কতটা নিরাপদ। কিন্তু এখন সন্তান নিজের ঘরে থেকেও অবারিত ভার্চ্যুয়াল জগতে নানা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। মোবাইল, ট্যাব ও ল্যাপটপের মাধ্যমে শিশু-কিশোররা সহজেই ক্ষতিকর কনটেন্ট, পর্নোগ্রাফি, ঘৃণাভিত্তিক বক্তব্য ও অনলাইন হয়রানির মুখোমুখি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক অ্যাপ এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে ব্যবহারকারীরা বারবার সেখানে ফিরে আসেন এবং দীর্ঘ সময় ব্যয় করেন। লাইক, মন্তব্য, নোটিফিকেশন ও নতুন কনটেন্ট ব্যবহারকারীদের মধ্যে এক ধরনের বাধ্যতামূলক ব্যবহারের প্রবণতা তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সার্জন জেনারেল বিবেক মূর্তি সতর্ক করে বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশু-কিশোরদের জন্য নিরাপদ-এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ নেই। বরং এর সাথে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের ২০২১ সালের ইয়ুথ রিস্ক সার্ভে অনুযায়ী, উচ্চবিদ্যালয়ের ৪২ শতাংশ শিক্ষার্থী দীর্ঘ সময় ধরে খারাপ লাগার অনুভূতির কথা জানিয়েছে। দিনে তিন ঘণ্টার বেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী কিশোরদের মধ্যে বিষণ্নতা ও উদ্বেগের ঝুঁকিও বেশি দেখা গেছে।
অন্যদিকে, ইউনিভার্সিটি অব বাথের গবেষণায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে কিছু সময় দূরে থাকার পর মানসিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ সমস্যার সমাধানের পুরো দায়িত্ব শুধু অভিভাবকদের ওপর ছেড়ে দেওয়া যথেষ্ট নয়। শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার, প্রযুক্তি কোম্পানি ও অভিভাবকদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এমনভাবে পরিচালিত ও নকশা করা জরুরি, যাতে ব্যবসায়িক লাভের চেয়ে ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।


