...|...|...

সারাদেশ

৯ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১৬ শিক্ষক, পাস করা একমাত্র ছাত্রের নাম জানে না অধ্যক্ষ

নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১ নভেম্বর ২০২৬, ভোর রাত ৫:১৭
Shares
৯ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১৬ শিক্ষক, পাস করা একমাত্র ছাত্রের নাম জানে না অধ্যক্ষ

ছবি: সংগৃহীত

একটি কলেজে ১৬ জন শিক্ষক থাকলেও শিক্ষার্থী মাত্র ৯ জন। চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় তাদের মধ্যে পাস করেছেন মাত্র একজন। ঘটনাটি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের মোছলেহ উদ্দিন ভূঁইয়া কলেজের।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানটির এমন ফলাফলের তথ্য জানা যায়। এ বছর কলেজটি থেকে ৯ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন একজন। এতে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ১১ শতাংশ।

এর আগে গত বছর এ কলেজ থেকে পাঁচজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেননি। পরপর দুই বছর এমন ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান ও পাঠদান কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জানা যায়, ২০১৪ সালে রায়পুরা উপজেলার বেগমাবাদ-তালুককান্দি এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মোছলেহ উদ্দিন ভূঁইয়া নিজের নামে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ১৬ জন শিক্ষক রয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কলেজে পড়াশোনার পরিবেশ দিন দিন নষ্ট হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে আসে না। অনেকেই ক্লাসের সময় টিকটক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটায়। এতে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশের অবনতি ঘটেছে।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রিটন মিয়া বলেন, ‘এ বছর আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে মাত্র একজন পাস করেছে। ফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভর্তি হওয়ার পর অনেক শিক্ষার্থী বিদেশ চলে যায়। আর যারা থাকে, তাদের অনেকেই নিয়মিত ক্লাসে আসত না। যারা পরীক্ষায় অংশ নিতে চায়, তাদের ফরম পূরণ করিয়ে কোচিং করানোর পর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ধারণা ছিল, ৯ জনের মধ্যে ৯ জনই পাস করবে। কিন্তু ফল প্রকাশের পর দেখি মাত্র একজন পাস করেছে।’

তবে পাস করা শিক্ষার্থীর নাম জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তা জানাতে পারেননি। গত বছর জীববিজ্ঞান বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া এক শিক্ষার্থী এ বছরও পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করতে পারেননি বলে জানান তিনি।

রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা বলেন, কলেজগুলোর ফলাফল শিক্ষা বোর্ড প্রকাশ করে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বোর্ড সমন্বিতভাবে সিদ্ধান্ত নেবে, কলেজটির কার্যক্রম চলবে কি না।