আজকের বিশ্বে রোবট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি আধুনিক বিজ্ঞানের বিস্ময় হিসেবে পরিচিত। তবে ইতিহাস বলছে, এসব প্রযুক্তির অনেক মৌলিক ধারণা প্রায় আট শতাব্দী আগেই বাস্তবে প্রয়োগ করেছিলেন এক মুসলিম প্রকৌশলী।
তিনি হলেন বদিউজ্জামান আবুল ইজ্জ ইসমাইল ইবনুর রজ্জাজ আল-জাজারি, যিনি সংক্ষেপে ইবনুল জাজারি নামে পরিচিত। দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ শতাব্দীর এই বিজ্ঞানী স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র, জলঘড়ি, পাম্প, গিয়ার ও বিভিন্ন যান্ত্রিক কৌশল উদ্ভাবন করেছিলেন।
ইবনুল জাজারি শুধু যন্ত্র তৈরি করেননি, বরং কীভাবে সেগুলো নির্মাণ করতে হবে, কোন অংশ কীভাবে কাজ করবে- এসব বিস্তারিতভাবে লিখে গেছেন। তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘জ্যামিতিক প্রকৌশল-কৌশল সম্পর্কিত জ্ঞানগ্রন্থ’-এ প্রায় ৫০টি যন্ত্রের নকশা ও নির্মাণ পদ্ধতি তুলে ধরা হয়।
১২০৬ সালে লেখা এই গ্রন্থকে প্রাচীন প্রকৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এতে যন্ত্রের চিত্র, পরিমাপ এবং কার্যপ্রণালির বিস্তারিত ব্যাখ্যা ছিল, যা পরবর্তী প্রজন্মের প্রকৌশলীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে।
ইবনুল জাজারির অন্যতম আলোচিত আবিষ্কার ছিল স্বয়ংক্রিয় সঙ্গীত পরিবেশনকারী যান্ত্রিক নৌযান। পানি প্রবাহের মাধ্যমে পরিচালিত এই যন্ত্রে কয়েকটি যান্ত্রিক পুতুল সঙ্গীতের মতো শব্দ তৈরি করত। এটি ছিল স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির এক অনন্য উদাহরণ।
তাকে অনেক সময় রোবট প্রযুক্তির পথিকৃৎ বলা হয়। যদিও তার তৈরি যন্ত্র আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবট ছিল না, তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করা যন্ত্র, যান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং নির্দিষ্ট নিয়মে পরিচালিত প্রযুক্তির ক্ষেত্রে তার অবদান ছিল যুগান্তকারী।
তার তৈরি অনেক যন্ত্র আজ আর নেই। কিন্তু তার লেখা বই ও নকশা টিকে আছে। আধুনিক সময়ে সেই নকশার ভিত্তিতে তার কিছু যন্ত্র পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।
প্রায় ৮০০ বছর আগে ইবনুল জাজারির দেখানো যান্ত্রিক চিন্তাধারা আজকের আধুনিক প্রযুক্তির ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে।
সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক


