...|...|...

সারাদেশ

৬ কোটির সড়কে কাজ হয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ, উধাও ঠিকাদার

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১:৫৭
Shares
৬ কোটির সড়কে কাজ হয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ, উধাও ঠিকাদার

৬ কোটির সড়কে কাজ হয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ। ছবি: টাইমস টুডে

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পৌনে ৬ কোটি টাকার সড়ক সংস্কার প্রকল্পের নির্ধারিত সময় শেষ হলেও কাজ হয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক ও কৃষকরা। কাজ ফেলে রাখার অভিযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)।

জানা গেছে, গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় শ্রীমঙ্গলের রাধানগর-মোহাজেরাবাদ প্রায় ৬ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ পায় বরিশালের মেসার্স কোহিনুর এন্টারপ্রাইজ। এর প্রোপ্রাইটর মেহেদী হাসান চৌধুরী। চুক্তি অনুযায়ী গত ১৫ এপ্রিল কাজ শুরু করে চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এর মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল।

কিন্তু গত ১২ সেপ্টেম্বর শ্রীমঙ্গল এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী সঞ্জয় কুমার পণ্ডিত সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখেন প্রকল্প এলাকা অরক্ষিত ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সাইটে কোনো শ্রমিক বা ঠিকাদারের প্রতিনিধিকেও পাওয়া যায়নি। টানা ২৮ দিনের বেশি কাজ বন্ধ রাখাকে চুক্তির মারাত্মক লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করেছে প্রশাসন।

এ ঘটনায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবদুর রাকিব স্বাক্ষরিত এক শোকজ নোটিসে বলা হয়েছে, চিঠি পাওয়ার ৩ কার্যদিবসের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করার লিখিত ওয়ার্ক প্ল্যান জমা দিতে হবে। অন্যথায় ব্যাংকে রক্ষিত ২৯ লাখ ২৭ হাজার টাকার জামানত বাজেয়াপ্ত, চুক্তি বাতিল এবং প্রতিষ্ঠানটিকে কালোতালিকাভুক্ত (ব্ল্যাকলিস্ট) করা হবে।

স্থানীয়রা জানান, পাঁচ তারকা রিসোর্ট গ্র্যান্ড সুলতানের কোল ঘেঁষে যাওয়া এই সড়কটি পর্যটন ও কৃষি অর্থনীতির মূল সড়ক। সড়কজুড়ে বড় বড় খানাখন্দ, কাদা-পানিতে প্রতিদিন হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটকের যানবাহন চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে। মুমূর্ষু রোগী ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের হাসপাতালে নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সময়মতো চা-পাতা কারখানায় পৌঁছাতে না পারায় লোকসানে পড়ছেন বাগান মালিকরা, আনারস ও লেবু চাষিরা দ্বিগুণ পরিবহন খরচ গুনছেন।

এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হাশেম, সালাহ উদ্দিন আইয়ুবী, শামসুদ্দিন ও জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, দ্রুত সড়ক সংস্কার না হলে তারা আন্দোলন ও অবরোধ কর্মসূচিতে যাবেন।

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কোহিনুর এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর মেহেদী হাসান চৌধুরীর মুঠোফোনে কল করা হলে তার ভাই পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি বলেন, কাজটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জনি আহমেদ নামে এক ব্যক্তিকে সাব-কন্ট্রাক্টে দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকে তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবদুর রাকিব বলেন, আমরা মাত্র ২০% অগ্রগতি পেয়েছি। শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হলে জামানত বাজেয়াপ্ত ও ব্ল্যাকলিস্টের চূড়ান্ত সুপারিশ পাঠানো হবে।

মৌলভীবাজার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফারুক আহমদ বলেন, ঠিকাদারের এমন গাফিলতি মেনে নেওয়া হবে না। জবাব সন্তোষজনক না হলে চুক্তি বাতিল করে নতুন দরপত্রের মাধ্যমে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, জনভোগান্তি নিয়ে কোনো অজুহাত চলবে না। এলজিইডির সাথে কথা হয়েছে, দ্রুততম সময়ে বিকল্প উপায়ে অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সাময়িক চলাচলের জন্য রাস্তা মেরামত করা হচ্ছে।