...|...|...

সারাদেশ

৫৫ বছর ধরে জুতা সেলাই, দুর্গাপূজায় কাপড় জোটেনি নিঃসন্তান ধাসুর দাশের

রাজন হোসেন তৌফিক, মৌলভীবাজার
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, রাত ২:৩১
Shares
৫৫ বছর ধরে জুতা সেলাই, দুর্গাপূজায় কাপড় জোটেনি নিঃসন্তান ধাসুর দাশের

ধাসুর দাশ (৭০)। ছবি: টাইমস টুডে

মৌলভীবাজার শহরের প্রাণকেন্দ্র কুসুমবাগ রোড। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাজারো মানুষের আনাগোনা, রিকশার বেল, গাড়ির হর্ন। এই ব্যস্ততার মাঝে ফুটপাতের এক কোণে ৫৫ বছর ধরে একই জায়গায় বসে আছেন এক মানুষ। নাম ধাসুর দাশ, বয়স ৭০ পেরিয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, সামনে একটি পুরোনো কাঠের বাক্সে সুঁই, সুতা, পেরেক, আঠা আর দু-এক জোড়া ছেঁড়া জুতা পড়ে আছে। খালি পায়ে বসে আপন মনে জুতা সেলাই করছেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, ৫৫ বছর আগে যখন এই রোডে এত দোকান ছিল না, তখন থেকেই তিনি এখানে বসেন। এক সময় প্রচুর কাজ ছিল, এখন মানুষ জুতা ছিঁড়লে ফেলে দেয়, সেলাই করতে আসে না। তাই আয় কমে গেছে।

তিনি বলেন, আগের মতো কাম নাই। সারাদিন বসে থাকি, কোনোদিন ১০০ টাকা হয়, কোনোদিন ৫০ টাকাও হয় না। এই টাকা দিয়ে ঘরে চাল-ডাল নিতে হয়। ঠিকমতো খাবার নিতে পারি না।

এই গল্পের সবচেয়ে আবেগী অংশ হলো, ধাসুর দাশ নিঃসন্তান। নিজের কোনো সন্তান নেই। কিন্তু ছোট ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রী অকালে মারা যাওয়ার পর তাদের তিনটি অবুঝ সন্তান এতিম হয়ে যায়। সেই তিন শিশুকে নিজের বুকে তুলে নিয়েছেন তিনি। নিজে না খেয়েও তাদের খাওয়ান, মানুষ করেন।

সদ্য শেষ হতে চলেছে শারদীয় দুর্গাপূজা। সবাই নতুন কাপড় পরেছে। কিন্তু ধাসুর দাশ নিজের জন্য কিছুই কিনতে পারেননি। স্ত্রীর জন্য ধার করে একটি কমদামি শাড়ি কিনে দিয়েছেন। নিজের জন্য একটা গেঞ্জি বা লুঙ্গিও কেনার সামর্থ্য হয়নি।

তিনি বসবাস করেন মনু নদীর পাড়ে একটি ঝুপড়ি ঘরে। সেখানে ৫২ বছর ধরে আছেন। বৃষ্টি হলে ঘরে পানি ঢোকে।

এ বিষয়ে প্রতিবেশী দোকানদার আব্দুল মুহিদ মিয়া বলেন, এখানে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে অসহায় মানুষটা। নিজে কোনো সন্তান নাই, ভাইয়ের সন্তান ৩টাকে লালন-পালন করেন। দুঃখের বিষয় হলো তার ছোট ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রী মারা গেলে তিন সন্তান এতিম হয়, এদেরকে লালন করতেছে। এখানে কোনো দিন মাত্র ১০০ টাকা ইনকাম করে। খুব কষ্টে আছে মানুষটা।

এলাকাবাসীর দাবি, এই অসহায় মানুষটির পাশে সমাজের বিত্তবান ও প্রশাসনের দাঁড়ানো উচিত।