...|...|...

সারাদেশ

৩৩ কোটি টাকার নির্মাণাধীন কলেজ এখন মাদকের আখড়া

মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৫ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ১:৩৪ | আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ভোর রাত ৪:৪৭
Shares
৩৩ কোটি টাকার নির্মাণাধীন কলেজ এখন মাদকের আখড়া

শিবচরের নির্মানাধীন আধুনিক নার্সিং কলেজ। ছবি: টাইমস টুডে

দেশে দক্ষ নার্সের সংকট নিরসন এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় প্রায় ৩৩ কোটি ২৫ লাখ ৪৬ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক নার্সিং কলেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

তবে প্রকল্পের ৮৮ শতাংশ কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে ২৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা বিল পরিশোধ করা হলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ। প্রায় দুই বছর ধরে কাজ বন্ধ থাকায় নির্মাণাধীন ভবনটি এখন মাদকসেবী ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কলেজ ক্যাম্পাসজুড়ে জন্মেছে ঘন আগাছা ও লতাপাতা। ভবনের বিভিন্ন কক্ষে পড়ে রয়েছে মাদক সেবনের নানা সরঞ্জাম। চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে থাকলেও সেখানে নেই কোনো নিরাপত্তাকর্মী কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপস্থিতি। 

স্থানীয়দের দাবি, দিনের বেলায় এলাকা নির্জন থাকলেও সন্ধ্যার পর নিয়মিত মাদকসেবীদের আনাগোনা শুরু হয়। দীর্ঘদিন অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকায় ভবনের বিভিন্ন কক্ষ থেকে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ মূল্যবান নির্মাণসামগ্রীও চুরির ঘটনা ঘটেছে।

স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, শিবচর উপজেলার বড় বাহাদুরপুর ও বড়দোয়ালী মৌজায় ২০২১ সালের ১০ মার্চ নার্সিং কলেজ নির্মাণকাজ শুরু হয়। রাজধানীর মিরপুরের পূর্ব শেওড়াপাড়াভিত্তিক দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান- মেসার্স এমএনএইচসিএল ও এইচএমএইচই (জেভি)- যৌথভাবে প্রকল্পটির দায়িত্ব পায়।

চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের ২০ জুন কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এরই মধ্যে প্রকল্পের ৮৮ শতাংশ কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়।

পরবর্তীতে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যক্রম বাতিল করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আলী হোসেন বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধ। দীর্ঘদিন ধরে এখানে কোনো শ্রমিক বা প্রকৌশলীকে দেখা যায় না। এখন ভবনটি এলাকার বখাটে ও মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে।

আরেক বাসিন্দা সাব্বির হোসেন বলেন, দিনে জায়গাটি নির্জন থাকলেও রাতে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। নিরাপত্তার অভাবে সাধারণ মানুষ সন্ধ্যার পর এ এলাকায় আসতে ভয় পান। দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে কলেজটি চালু করা জরুরি।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) শিবচর উপজেলা শাখার সভাপতি আবুল খায়ের খান বলেন, দেশে দক্ষ নার্সের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। প্রকল্পটি দ্রুত সম্পন্ন করে কলেজ চালু করা গেলে একদিকে দক্ষ নার্স তৈরি হবে, অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবার মানও উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।

এ বিষয়ে মাদারীপুর স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব বলেন, অবশিষ্ট নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করে দরপত্র বাতিল করা হয়েছে। নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করা হবে।