...|...|...

জাতীয়

৩ মাসের মধ্যে ঢাকার চারপাশে ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ: নৌ-পরিবহনমন্ত্রী

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৯:০৯ | আপডেট: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১:২২
Shares
৩ মাসের মধ্যে ঢাকার চারপাশে ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ: নৌ-পরিবহনমন্ত্রী

নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর যানজট কমানো এবং নৌপথে যাত্রী চলাচল বাড়াতে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে ঢাকার চারপাশের নদীপথে ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

নৌমন্ত্রী বলেন, ঢাকার চারপাশের নদীপথে আগে প্রায় এক দশক ওয়াটার বাস চলাচল করেছে। তবে এ সেবা পরিচালনায় গত ১০ বছরে প্রায় ৫৭ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। গড়ে প্রতি বছর ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

তিনি জানান, আগের অভিজ্ঞতা ও সমস্যাগুলো পর্যালোচনা করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) নতুনভাবে ওয়াটার বাস চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে এবার আরও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেবাটি পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

দেশের নৌপথের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ কিলোমিটার নৌপথ রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে সচল রাখা হয়েছে।

নৌপথের নাব্যতা বজায় রাখতে ড্রেজিং কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেসব এলাকায় নৌযান চলাচল গুরুত্বপূর্ণ এবং যেখানে নিয়মিত নাব্যতা রক্ষা প্রয়োজন, সেখানে বিআইডব্লিউটিএর মাধ্যমে সংরক্ষণমূলক ড্রেজিং পরিচালনা করা হচ্ছে।

ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর দূষণ প্রসঙ্গেও কথা বলেন নৌমন্ত্রী। তিনি জানান, নদীদূষণের উৎস চিহ্নিত করতে ইতোমধ্যে ৪২৪টি স্পট নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব স্থানে রাসায়নিক, তরল এবং কঠিন বর্জ্য নদীতে পড়ার বিষয়টি শনাক্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ঢাকার আশপাশের পাঁচটি নদী দূষণমুক্ত করতে সমন্বিত কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট নদীগুলো পরিদর্শনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

নদী রক্ষায় ওয়াসা, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন, বিআইডব্লিউটিএ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সংস্থা একযোগে কাজ করছে বলে জানান তিনি।

নদীর তীর সংরক্ষণ এবং শিল্পবর্জ্য যাতে নদীতে না পড়ে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও সংসদকে জানান নৌ-পরিবহনমন্ত্রী।