...|...|...

জাতীয়

হজযাত্রী পরিবহনে ৩ এয়ারলাইন্স, বিমানের কোটা ৫০ শতাংশ

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ২:৪৩ | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৮:৩৮
Shares
হজযাত্রী পরিবহনে ৩ এয়ারলাইন্স, বিমানের কোটা ৫০ শতাংশ

ছবি: সংগৃহীত

২০২৭ সালের হজযাত্রী পরিবহনের জন্য তিনটি এয়ারলাইন্সকে কোটা নির্ধারণ করে দিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে বিমান সংস্থাগুলোর কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের চিঠি অনুযায়ী, হজযাত্রী পরিবহনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৫০ শতাংশ, সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স ৩৫ শতাংশ এবং ফ্লাইনাস ১৫ শতাংশ কোটা পেয়েছে।

চিঠিতে জানানো হয়, সৌদি আরব ও বাংলাদেশের মধ্যে ২০২৭ সালের হজ সংক্রান্ত দ্বিপক্ষীয় চুক্তি আগামী ৬ থেকে ১১ নভেম্বরের মধ্যে সই হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর বাংলাদেশের জন্য হজযাত্রীর চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারিত হবে। এর আগেই পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে তিন এয়ারলাইন্সের মধ্যে কোটা বণ্টন করা হয়েছে।

হজযাত্রীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে নির্ধারিত পোর্ট কোটা অনুসরণ করতে হবে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ যাত্রী জেদ্দা বিমানবন্দর এবং ২০ শতাংশ মদিনা বিমানবন্দর দিয়ে সৌদি আরব যাওয়া-আসা করবেন।

সরকার ঘোষিত হজ প্যাকেজে নির্ধারিত বিমান ভাড়ায় ডেডিকেটেড ফ্লাইট পরিচালনা করে হজযাত্রী পরিবহন করতে হবে। এসব ফ্লাইটে বিজনেস ক্লাসের জন্য অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না।

কোটা বরাদ্দ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিটি এয়ারলাইন্সকে ফ্লাইট সিডিউলের খসড়া তৈরি করে অনুমোদনের জন্য সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ)-এর কাছে পাঠাতে হবে। একই সঙ্গে এর একটি কপি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে।

জিএসিএ ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) অনুমোদন পাওয়া ফ্লাইট সিডিউল সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের ওয়েবসাইট এবং হজ পোর্টালে প্রকাশ করতে হবে।

এজেন্সির কাছ থেকে টিকিটের চাহিদা পাওয়ার পর সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে টিকিট দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। পে-অর্ডার পাওয়ার পর দুই দিনের মধ্যে হজযাত্রীর নামে টিকিট ইস্যু করার নির্দেশনাও রয়েছে।

টিকিট ইস্যুর পর সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সকে নিজেদের ওয়েবসাইটের পাশাপাশি ই-হজ সিস্টেমে প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত করতে হবে। একই সাথে পিএনআর, টিকিট নম্বর ও ফ্লাইট নম্বর উল্লেখ করে হজযাত্রীকে এসএমএসের মাধ্যমে জানাতে হবে।

হজ ফ্লাইট শুরুর অন্তত এক মাস আগে ই-হজ সিস্টেমে তথ্য সংযুক্তি, টিকিট বিক্রির এসএমএস ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রস্তুতির বিষয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে অবহিত করতে হবে।

হজযাত্রীর মৃত্যুর ক্ষেত্রেও টিকিটের অর্থ ফেরতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবে যাওয়ার আগে কোনো হজযাত্রীর মৃত্যু হলে তার টিকিটের পুরো অর্থ ফেরত দিতে হবে। মৃত ব্যক্তির সাথে সহগামী হিসেবে নিবন্ধিত পরিবারের সদস্যরা হজে না গেলে তাদের বিমান ভাড়াও ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর কোনো হজযাত্রীর মৃত্যু হলে তার পরিবারকে টিকিটের ৫০ শতাংশ অর্থ ফেরত দিতে হবে।

দুর্ঘটনা, গুরুতর অসুস্থতা, ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা কিংবা যৌক্তিক অন্য কোনো কারণে নির্ধারিত ফ্লাইটে কোনো হজযাত্রী যেতে না পারলে প্রতিস্থাপনের সুযোগ দিতে হবে। সরকারি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে হজ অফিস, ঢাকা এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট এজেন্সিকে ফ্লাইটের অন্তত ৩৬ ঘণ্টা আগে এয়ারলাইন্সকে বিষয়টি জানাতে হবে।

হজ শেষে ফেরার ফ্লাইটে টিকিট পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রচলিত নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে অন্য এয়ারলাইন্সগুলোকে।

এ ছাড়া হজের নিয়মকানুন সম্পর্কিত ভিডিও ফ্লাইট চলাকালে বিমানে প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী ভিডিও না দেখালে সেটিকে হজ ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের অসহযোগিতা বা অবহেলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

নির্ধারিত কোটার বেশি হজযাত্রীর কাছ থেকে পে-অর্ডার গ্রহণ বা তাদের পরিবহন করতে পারবে না কোনো এয়ারলাইন্স। এর ব্যত্যয় ঘটলে তা হজ ব্যবস্থাপনায় অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, হজযাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত উড়োজাহাজ ওয়াইড বডি ও মানসম্মত হতে হবে। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী হজযাত্রীর কোটা কমানো, বাড়ানো, পরিবর্তন বা সংশোধনের ক্ষমতা ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকবে।