...|...|...

ক্যাম্পাস

স্ত্রীকে নির্যাতন ও হুমকির অভিযোগ পাবিপ্রবি ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

পাবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ২:৩৫
Shares
স্ত্রীকে নির্যাতন ও হুমকির অভিযোগ পাবিপ্রবি ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

অভিযুক্ত সজীব প্রামাণিক। ছবি: সংগৃহীত

‎পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক সজীব প্রামাণিকের বিরুদ্ধে তার স্ত্রীকে মারধর, হুমকি ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সজীবের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও মারধরের অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী। অভিযুক্ত সজীব প্রামাণিক বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। 
‎
‎ভুক্তভোগী মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের (১৪ তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে পারিবারিকভাবে সজীবের সাথে তার বিয়ে হয় বলে জানা গেছে।
‎
‎ভুক্তভোগীর ছাত্রীর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই সজীবের সাথে তার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছে। সজীব বিয়ের পরও অন্য এক নারীর সাথে যোগাযোগ রাখেন। মেয়ে যখন জানতে পারে সজিব বিবাহিত তখন সে তার স্ত্রীকে সব বলে দেয়। এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলায় সজিব উল্টো তার স্ত্রীকেই দোষারোপ করেন বলে জানা যায়। এছাড়া তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব শেষ করে দেওয়া, চাকরি খেয়ে দেওয়াসহ ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
‎
‎ভুক্তভোগী বলেন, গতকাল রাত ১টার দিকে সজীব ও তার বাবা-মা মিলে আমাকে মারধর করেন। এসময় সজীব আমাকে কিল-ঘুষি ও বুকে-পেটে লাথি মারা হয়। পরে সকালে আমার বাবা-মা আমাকে নিতে এলে আমি বাসা থেকে বের হওয়ার সময় সজীবের মা বটি নিয়ে আমাকে কোপ দিতে আসেন। আমি হাত দিয়ে থামাতে গেলে তা আমার হাতে কোপ লাগে। বিষয়টা নিয়ে আমরা থানায় মামলা করবো।
‎
‎তিনি আরও অভিযোগ করেন, সজীবের পরিবারের অভাব-অনটনের থাকায় সোনালী ব্যাংক থেকে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ করে দেওয়ার জন্যও তাকে চাপ দেওয়া হয়।
‎
‎ভুক্তভোগীর দাবি, এর আগেও প্রায় দুই মাস আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগেটে সজীব তাকে মারধর করেন। এ সময় দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা সজীবকে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যান বলে জানান তিনি।
‎
‎তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সজীব প্রামাণিক। তিনি বলেন, আমার ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। ওর হাতে কেউ কোপ দেয়নি। আমার এলাকার প্রতিবেশীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ও বের হওয়ার সময় গেটের সাথে ওর হাত লেগে কেটে যায়।

হুমকি দেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করে সজীব বলেন, আমি তাকে কোনো হুমকি দিইনি। গত রাতে আমাদের দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় এবং হাতাহাতিও হয়েছে। সেও আমার গায়ে হাত তুলেছে। পরে আমার বাবা-মা এসে আমাদের দুজনকে থামান। আমার মা-বাবা তার গায়ে হাত দেননি।
‎আর আমি লোন করে কোনো টাকা দিতে বলিনি ও নিজে থেকেই আমাকে দিতে চেয়েছে। '
‎
‎এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি শেখ মোজাহিদ হোসেন বলেন, এই বিষয়টি আমি মাত্র আপনার থেকে জানতে পারলাম। আমাদের কমিটি গঠনের সময় ও বিবাহিত কেউ ছিলো না। যদি আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসে। সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।