...|...|...

বিশ্ব

সোমালিয়ায় তেলবাহী জাহাজে জলদস্যুদের হামলা, ভারত-পাকিস্তানিসহ নিহত ৫

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:১৬ | আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:১৬
Shares
সোমালিয়ায় তেলবাহী জাহাজে জলদস্যুদের হামলা, ভারত-পাকিস্তানিসহ নিহত ৫

ছবি: সংগৃহীত

সোমালিয়ার উপকূলে জলদস্যুদের কবলে পড়া একটি তেল ট্যাংকারে নিরাপত্তা বাহিনীর উদ্ধারের অভিযানের আগে পাঁচ ক্রু সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। 

সোমালি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পালাউয়ের পতাকাবাহী ‘এমটি অনার ২৫’ নামের ট্যাংকারটিতে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এই হতাহতের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

উল্লেখ্য, দশ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সোমালি জলদস্যুদের হাতে এটিই প্রথম কোনো প্রাণহানির ঘটনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরান যুদ্ধের প্রভাবের কারণে সোমালিয়ায় জলদস্যুতার এই নতুন পুনরুত্থান ঘটেছে।

কর্তৃপক্ষের জানানো তথ্য অনুযায়ী, ১৮ হাজার ৫০০ ব্যারেল তেলবাহী এমটি অনার ২৫ জাহাজটি গত ২১ এপ্রিল সোমালিয়া উপকূল থেকে জলদস্যুরা অপহরণ করেছিল। সোমালিয়ার আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল পুন্টল্যান্ডের তথ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, একটি সফল উদ্ধার অভিযানে জাহাজটিকে মুক্ত করা হয়েছে এবং ১৬ জন সন্দেহভাজন জলদস্যুকে আটক করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযান শুরুর আগেই জাহাজে থাকা জলদস্যুরা পাঁচ ক্রুকে হত্যা করে। নিহতদের মধ্যে তিনজন পাকিস্তানের, একজন মিয়ানমারের এবং একজন ভারতের নাগরিক। এছাড়া হামলায় আরও চার ক্রু সদস্য আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজন পাকিস্তানি ও একজন ভারতীয়।

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে পুন্টল্যান্ড মেরিটাইম পুলিশ ফোর্স জানিয়েছে, জাহাজটি বর্তমানে সম্পূর্ণ ‘নিরাপদ’ এবং সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এছাড়া এই হাইজ্যাকিং ঘটনার সাথে জড়িত অন্য অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে, গত সপ্তাহে অপর এক অভিযানে মেরিটাইম পুলিশ সোমালি জলদস্যুদের আগস্ট মাসে হাইজ্যাক করা যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক নিষিদ্ধ ‘সিবু ১’ নামের আরেকটি ট্যাংকার উদ্ধার করেছিল। তবে সেই অভিযানে গ্রেফতার হওয়া ৪১ জন জলদস্যুর মধ্যে ২৮ জনই কারাগারে স্থানান্তরের সময় পালিয়ে যায়, যার পরিপ্রেক্ষিতে পুন্টল্যান্ডের বেশ কিছু নিরাপত্তা কর্মকর্তা স্থানীয় পুলিশের জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন।

সোমালি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাস থেকে এ পর্যন্ত উপকূলীয় অঞ্চলে অন্তত ১৫টি হামলার ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সোমালি জলদস্যুতার আগের বড় ঢেউটি বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত সামুদ্রিক বাণিজ্য পথকে ব্যাহত করেছিল, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বিলিয়ন ডলার ক্ষতি এবং শত শত মিলিয়ন ডলারের মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা ঘটিয়েছিল।