দীর্ঘ ৪১ বছরের গৌরবময় কর্মজীবন শেষে অবসরে গেলেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থানার পুলিশ কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন হাওলাদার। চাকরিজীবনের শেষ দিনে সহকর্মীদের ভালোবাসা, সম্মান ও আন্তরিকতায় ব্যতিক্রমী আয়োজনে তাকে বিদায় জানানো হয়। সুসজ্জিত গাড়িতে করে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে তার দীর্ঘ সেবামূলক জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ।
রবিবার (২ আগস্ট) বিকেলে ফরিদগঞ্জ থানা প্রাঙ্গণে এ উপলক্ষে বিদায়ী সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা স্মারক প্রদান এবং বিশেষ সাজে সজ্জিত গাড়িতে বিদায় জানানো হয়।
থানা কর্তৃপক্ষ জানায়, দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি হিসেবেই কনস্টেবল জাকির হোসেনকে স্মরণীয় বিদায় দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. এরশাদ উল্লাহ, পরিদর্শক (তদন্ত) আল-আমিন তালুকদার, উপপরিদর্শক (এসআই) আমজাদ চৌধুরীসহ থানার অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা।
অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফরিদগঞ্জ থানার পক্ষ থেকে সুসজ্জিত গাড়িতে করে জাকির হোসেন হাওলাদারকে তার নিজ বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলার বুড়ঙ্গাচর গ্রামে পৌঁছে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, মো. জাকির হোসেন হাওলাদার চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪ নম্বর ইউনিয়নের বুড়ঙ্গাচর গ্রামের হাওলাদার বাড়ির মৃত নুরুল ইসলাম হাওলাদারের ছেলে। ১৯৬৬ সালে জন্ম নেওয়া জাকির হোসেন ১৯৮৬ সালের ২৫ নভেম্বর বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল পদে যোগ দেন।
দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি চট্টগ্রাম, বান্দরবান, সিলেট ও লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করেন। চাকরির শেষ সময়ে নিজ জেলার ফরিদগঞ্জ থানায় দায়িত্ব পালন শেষে অবসরে যান তিনি।
ব্যক্তিজীবনে জাকির হোসেন দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক। দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে দুই ছেলে পড়াশোনা করছেন।
ব্যতিক্রমী বিদায়ে আবেগাপ্লুত জাকির হোসেন হাওলাদার বলেন, পুলিশে একজন কনস্টেবলের অবসর সাধারণ ঘটনা। সাধারণত কনস্টেবলদের এভাবে আনুষ্ঠানিক বিদায় দেওয়া হয় না। আমার ক্ষেত্রে এমন আয়োজন হবে, কখনো ভাবিনি। এই বিদায় আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকবে।
ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ বলেন, অবসরকে স্মরণীয় করে রাখতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদায়ের মুহূর্তে তার মুখে হাসি ফোটাতে পেরে আমরাও আনন্দিত। বাংলাদেশ পুলিশ সবসময় তার ও তার পরিবারের পাশে থাকবে।

