...|...|...

সারাদেশ

সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, সকাল ১০:২০ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৭:৪৬
Shares
সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি

সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ। ছবি: টাইমস টুডে

সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ প্রকল্প ২০১৮ সালে অনুমোদনের সময়  ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা, মাত্র আট বছরের ব্যবধানে সেই ব্যয় বেড়ে প্রায় ১২ হাজার ৫০০ কোটিতে পৌঁছেছে। অর্থাৎ প্রকল্পটির ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ব্যয় বৃদ্ধির জন্য নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, জমি অধিগ্রহণ ব্যয় বৃদ্ধি, ডলারের বিনিময় হার এবং প্রকল্পের পরিধি সম্প্রসারণকে দায়ী করলেও বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন- পরিকল্পনা প্রণয়নে দূরদর্শিতার অভাব এবং দীর্ঘসূত্রতাই কি এই বিপুল ব্যয় বৃদ্ধির মূল কারণ।

২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুমোদিত প্রকল্পটি ভারতীয় ঋণে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভারতীয় অর্থায়ন বাতিল হয়ে গেলে প্রকল্পটি অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। বর্তমানে অর্থায়নে এগিয়ে এসেছে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অর্থায়ন পরিবর্তনের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে কয়েক বছরের বিলম্ব হয়েছে। এই বিলম্বই ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংশোধিত ডিপিপি অনুযায়ী, ‘ভূমি অধিগ্রহণ খাতেই ব্যয় বেড়েছে ৩২৩ কোটি টাকার বেশি। শুরুতে ৯৬০ একর জমির জন্য ১ হাজার ৯২১ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও বর্তমানে ৯০১.৭৭ একর জমির জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা।’

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০১৮ সালে অনুমোদনের পরও প্রকল্পের মূল নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। এখনো দরপত্র আহ্বানের পর্যায়েই পৌঁছানো যায়নি। প্রকল্প পরিচালক জানিয়েছেন, ‘সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদনের পরও টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মূল কাজ শুরু করতে আরও প্রায় ৯ মাস সময় লাগবে।’

এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে- যে প্রকল্পের কাজ ২০২৬ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল, সেটির বাস্তব নির্মাণ কাজই যদি ২০২৭ সালের আগে শুরু না হয়, তাহলে প্রাথমিক পরিকল্পনা কতটা বাস্তবসম্মত ছিল।

রেলওয়ের দাবি, নতুন ৭৬ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মিত হলে বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জের দূরত্ব ১১৪ কিলোমিটার কমবে।

বর্তমানে ট্রেনকে সান্তাহার, নাটোর ও ঈশ্বরদী হয়ে প্রায় ১৯০ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। নতুন রুট চালু হলে যাত্রীরা প্রায় তিন ঘণ্টা সময় সাশ্রয়ের সুযোগ পাবেন। একই সাথে উত্তরাঞ্চলের সাথে ঢাকার রেল যোগাযোগ আরও দ্রুত ও সাশ্রয়ী হবে।

সম্প্রতি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রকল্পের রুট পরিবর্তনসহ কয়েকটি প্রস্তাব দেন। এতে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ‘প্রকল্পের নকশা চূড়ান্ত হওয়ার পর রুট পরিবর্তনের মতো বিষয় আবার সামনে আসা ভবিষ্যতে ব্যয় ও সময় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।’

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, প্রকল্পটি অনেক আগেই বাস্তবায়িত হওয়া উচিত ছিল। দীর্ঘ বিলম্বের কারণেই এখন অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রয়োজন হচ্ছে।

তার মতে, শুরু থেকেই কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে ব্যয় আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।