...|...|...

লাইফস্টাইল

সাবেক প্রেমিকাকে ভুলতে সময় লাগে প্রায় আট বছর, বলছে গবেষণা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮:০৬ | আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮:৩৬
Shares
সাবেক প্রেমিকাকে ভুলতে সময় লাগে প্রায় আট বছর, বলছে গবেষণা

প্রতীকী ছবি।

‘সময়ই সব ক্ষত সারিয়ে দেয়’, কথাটা প্রচলিত। কিন্তু হৃদয়ের ক্ষতের বেলায় সেই ‘একদিন’ যে কত দীর্ঘ হতে পারে, তার এক বিস্ময়কর হিসাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি নতুন গবেষণা। বিচ্ছেদের পর ভালোবাসার মানুষটিকে মন থেকে সরাতে মাস নয়, বছর পেরিয়ে যেতে পারে।

ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এ নিয়ে একটি সমীক্ষা চালিয়েছেন, যার ফল প্রকাশিত হয়েছে ‘সোশ্যাল সাইকোলজিক্যাল অ্যান্ড পার্সোনালিটি সায়েন্স’ জার্নালে। সমীক্ষায় অংশ নেন তিনশোর বেশি প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ, যাদের প্রত্যেকেরই অন্তত দুই বছরের দীর্ঘ সম্পর্ক কয়েক বছর আগে ভেঙে গেছে। অর্থাৎ এরা ক্ষণিকের আবেগে জড়ানো মানুষ নন। এদের সম্পর্কের পেছনে ছিল সময়, নির্ভরতা আর সহজ অভ্যাসের এক দীর্ঘ পথচলা।

বিচ্ছেদের পর অংশগ্রহণকারীদের গড়ে প্রায় পাঁচ বছর কেটে গেছে। পাঁচ বছর কম সময় নয়। এর মধ্যে বদলে যায় শহর, চাকরি, চেনা মুখ, এমনকি জীবনের গতিপথও। তবু তাদের অনেকেই স্বীকার করেছেন, পুরোনো সঙ্গীর জন্য মনের এক নিভৃত কোণে কিছু অনুভূতি এখনো রয়ে গেছে। সে অনুভূতি হয়তো আর আগের মতো তীব্র নয়, কিন্তু একেবারে মুছেও যায়নি।

গবেষকদের হিসাবে, সাবেক সঙ্গীর প্রতি আবেগের তীব্রতা অর্ধেকে নামতে গড়ে লাগে প্রায় ৪ দশমিক ১৮ বছর। অর্থাৎ যে টান একদিন সারাক্ষণ ঘিরে রাখত, তার অর্ধেক হালকা হতেই পার হয়ে যায় চার বছরেরও বেশি। আর আবেগ পুরোপুরি মিলিয়ে যেতে সময় লাগে আরও বেশি, গড়ে প্রায় আট বছর।

তবে এটি কেবল গড় হিসাব। মানুষের মন তো আর অঙ্কের সূত্র মেনে চলে না। কারও ক্ষেত্রে এই পথ ফুরোয় তুলনামূলক কম সময়ে, কারও বা টানে আরও বেশি। এমনকি কয়েক বছর পেরিয়েও কেউ কেউ সাবেক সঙ্গীর প্রতি এমন টান অনুভব করেন, যা কোনো অপরিচিত মানুষের প্রতি অনুভূতির চেয়ে স্পষ্টতই গভীর। যাকে একদিন সবচেয়ে কাছের মনে হতো, তিনি হয়তো এখন শুধুই অতীত, কিন্তু মনের ভেতরে তার জায়গাটি রয়ে যায় অন্য যে কোনো মানুষের চেয়ে আলাদা।

গবেষণায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও উঠে এসেছে। বিচ্ছেদের পরও যারা সাবেক সঙ্গীর সাথে যোগাযোগ রাখেন, তাদের ক্ষেত্রে আবেগ কাটিয়ে ওঠার গতি ধীর হয়ে যায়। কথাটি হয়তো আমাদের জানা, তবু বাস্তবে এড়িয়ে চলা সহজ নয়। একটি বার্তা, একটি ফোন কিংবা একটি অপ্রয়োজনীয় খোঁজখবর, প্রতিটিই পুরোনো সুতোয় নতুন করে টান দেয়।

আবার অনেকে ভাবেন, নতুন কারও সঙ্গে সম্পর্ক গড়লেই পুরোনো স্মৃতি আপনাআপনি ফিকে হয়ে যাবে। কিন্তু গবেষকেরা এমন কোনো প্রমাণ পাননি যে নতুন সম্পর্কে জড়ালেই পুরোনো সম্পর্কের রেশ দ্রুত মিলিয়ে যায়। নতুন মানুষ আসতে পারেন জীবনে, তবু পুরোনো অনুভূতি নিজের গতিতেই ধীরে বিদায় নেয়।

এই পথ আরও দীর্ঘ হতে দেখা গেছে উদ্বেগপ্রবণ মানুষের ক্ষেত্রে। যাদের মন সহজেই দুশ্চিন্তায় জড়িয়ে পড়ে, তাদের পক্ষে অতীতকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়া তুলনামূলক কঠিন হয়ে ওঠে।

সাবেক দম্পতির সন্তান থাকলে ছবিটি কিছুটা আলাদা। এসব ক্ষেত্রে শুরুতে দুজনের মধ্যে আবেগের বাঁধন তুলনামূলক বেশি শক্ত থাকে। সন্তানকে ঘিরে দুজনের জীবন তো জড়িয়েই থাকে। তবে দীর্ঘ সময়ের হিসাবে এই মানুষদের আবেগ তুলনামূলক দ্রুত কমে আসতে পারে। অর্থাৎ শুরুতে যে বন্ধন বেশি টানে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই বন্ধনই তুলনামূলক দ্রুত আলগা হতে দেখা গেছে।

বিচ্ছেদের যন্ত্রণা কাটাতে আমরা অনেকেই মাস আর দিনের হিসাব কষি। ভাবি, আর কতদিন, কবে আবার আগের মতো হব। এই গবেষণা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মন সারতে চলে নিজের ছন্দে, ধীরে এবং প্রত্যেকের নিজস্ব গতিতে। কারও কাছে এ পথ ছোট, কারও কাছে দীর্ঘ, কিন্তু কোনোটিই দুর্বলতার লক্ষণ নয়।

তাই নিজের ওপর অযথা তাড়া না দিয়ে, নিজের অনুভূতিকে অস্বীকার না করে, সময়কে তার মতো সময় দেওয়াই সম্ভবত সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ। কারণ যে সম্পর্ক একদিন জীবনের এতটা জায়গা জুড়ে ছিল, তার রেশ কাটতে সময় লাগবে, সেটাই স্বাভাবিক।