...|...|...

সারাদেশ

শেরপুরে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ডলি হত্যা রহস্য উদঘাটন, দম্পতি গ্রেফতার

শেরপুরে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ডলি হত্যা রহস্য উদঘাটন, দম্পতি গ্রেফতার

Times Today
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ভোর রাত ৫:৩৭ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:৩৮
Shares
শেরপুরে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ডলি হত্যা রহস্য উদঘাটন, দম্পতি গ্রেফতার

শেরপুরের শ্রীবরদীতে ট্রাঙ্কের ভেতর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া নারীর পরিচয় শনাক্ত করেছে তদন্ত সংস্থা।  নিহত নারী ডলি আক্তার (২৬), নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।  অর্থ লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্ত নিয়ামুর নাহিদ (২৬) ও তার স্ত্রী রিক্তা মনি (২৬)কে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেফতার করা হয়েছে।

তদন্তে জানা যায়, গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি টেক্সটাইল মিলে চাকরির সুবাদে ভাড়া বাসায় থাকতেন নাহিদ ও তার স্ত্রী।  গত ৩০ মার্চ রাতে স্ত্রী বাসায় না থাকার সুযোগে নাহিদ ডলি আক্তারকে অর্থের বিনিময়ে বাসায় নিয়ে আসেন।

একপর্যায়ে টাকা কম দেওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।  ডলি আক্তার চিৎকার করলে নাহিদ প্রথমে মুখ চেপে ধরেন।  পরে গামছা দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

রাতেই স্ত্রীকে বিষয়টি জানিয়ে মরদেহ গোপনে সরানোর পরিকল্পনা করেন নাহিদ।  পরে দু’জনে মিলে স্থানীয় বাজার থেকে একটি বড় ট্রাঙ্ক কিনে মরদেহ তোষকে পেঁচিয়ে ভেতরে রাখেন।

গাজীপুরের জনবহুল এলাকায় লাশ ফেলা ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়ায় তারা শেরপুরের শ্রীবরদীতে এনে ফেলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

বুধবার (১ এপ্রিল) ভোরে একটি পিকআপভ্যানের মাধ্যমে ট্রাঙ্কটি শেরপুরে আনা হয়।  পরে শ্রীবরদী সরকারি কলেজ সংলগ্ন নয়াপাড়া ঢালীবাড়ী তিন রাস্তার মোড়ে ট্রাঙ্কটি ফেলে রেখে পালিয়ে যান অভিযুক্তরা।

ঘটনার পর শুক্রবার (৩ এপ্রিল) পিকআপভ্যান শনাক্ত করে চালক আশরাফ আলীকে আটক করা হয়।  তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার ভোরে নাহিদ ও রিক্তা মনিকে গ্রেফতার করা হয়।

পরে জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।  শনিবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত অন্য কেউ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।