গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্য দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির বিষয়ে নিজেদের অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার সঙ্গে নয়াদিল্লির কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো ধরনের সম্পর্ক বা সম্পৃক্ততা নেই।
নিয়মিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, যে আয়োজন বা ফোরামের মাধ্যমে এই বক্তব্য দেওয়া হয়েছে সেটি সম্পূর্ণ একটি বেসরকারি গণমাধ্যম সংস্থার উদ্যোগ। এর সঙ্গে ভারতের সরকারি নীতিনির্ধারক কিংবা কেন্দ্রীয় প্রশাসনের কোনো ধরনের সংযোগ বা সংশ্লিষ্টতা নেই। এছাড়া ওই ফোরামে কোনো ধরনের মতামত প্রকাশ করা হলে ভারত সরকার তার কোনোটিই সমর্থন করে না বলেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে, এই বিষয়ের রেশ ধরে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও গণমাধ্যম অঙ্গনেও কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো গণমাধ্যম বা সংবাদমাধ্যম যেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো ধরনের বক্তব্য প্রচার বা সম্প্রচার না করে, সে বিষয়ে জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি আদালতের এই আদেশ অমান্য করে বক্তব্য প্রকাশ বা প্রচার করে, তবে সরকার তাদের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পিছপা হবে না।
এর আগেও সরকারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমগুলোর জন্য সতর্কতামূলক বিভিন্ন নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, কেউ যদি আগে থেকেই প্রচার করে যে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেবেন এবং পরবর্তীতে তা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ বা সম্প্রচার করে, তবে তা সরাসরি আদালতের নির্দেশ অমান্য করার শামিল বলে গণ্য হবে। আদালতের আদেশ মানা দেশের প্রতিটি নাগরিক এবং প্রতিষ্ঠানের নৈতিক ও আইনগত দায়িত্ব। সরকারের মূল কাজ হলো আদালতের এই সিদ্ধান্তগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
এছাড়া তিনি আরও যোগ করেন, আদালতের নির্দিষ্ট কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকলে হয়তো শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে কোনো বাধা থাকতো না- এটি তার ব্যক্তিগত মতামত হতে পারে। তবে কেউ যদি বর্তমান আদালতের আদেশের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন, তবে তাদের জন্য আইনি পথ খোলা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আদালতে গিয়ে এই আদেশ চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ পান।
তবে যতদিন পর্যন্ত আদালতের এই নিষেধাজ্ঞা বা আদেশ বহাল থাকবে, দেশের প্রতিটি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে তা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে হবে। দেশের আইনশৃঙ্খলা ও বিচার বিভাগের মর্যাদা রক্ষায় সরকার কোনো ধরনের ছাড় দেবে না বলেও নীতিনির্ধারক মহলের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।


