মানুষ বিপদ-আপদ, রোগ-ব্যাধি কিংবা কোনো কাঙ্ক্ষিত আশা পূরণের সময় আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন নেক কাজ করার মানত করে থাকেন। অনেকেই মানত করেন, প্রিয়জন সুস্থ হয়ে উঠলে বা কোনো আশা পূরণ হলে দরিদ্রদের খাবার খাওয়াবেন। পরে সেই আশা পূরণ হলে মানতটি কীভাবে আদায় করতে হবে, কতজনকে খাওয়াতে হবে এবং কারা এর উপযুক্ত-এসব বিষয়ে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে। ইসলামী শরিয়তে মানতের রয়েছে নির্দিষ্ট বিধান। তাই রোগমুক্তি বা কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের জন্য দরিদ্রদের খাওয়ানোর মানত করলে তা কীভাবে পূরণ করতে হবে, তা জানা জরুরি।
তবে দেখা যায়, মানত করার সময় অধিকাংশ মানুষই খাবারের পরিমাণ কিংবা দরিদ্রের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে বলেন না। ফলে মনের আশা পূর্ণ হওয়ার পর মানত আদায়ের সময় অনেকে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যান যে, ঠিক কতজন দরিদ্র মানুষকে খাবার খাওয়ালে শরিয়তের দৃষ্টিতে মান্নত সঠিকভাবে পূর্ণ হবে? এই প্রশ্নের জবাবে ফিকহ-ফতোয়ার কিতাব ও বিজ্ঞ আলেমদের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা বিদ্যমান রয়েছে।
রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের (মিরপুর-১২) ফতোয়া বিভাগের দায়িত্বশীল মুফতি আব্দুর রহমান হোসাইনী কালবেলার সাথে আলাপকালে এই বিষয়ের নির্ভরযোগ্য শরয়ি সমাধান তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, কেউ যদি মান্নত করার সময় কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ না করে কেবল সাধারণভাবে বলে যে, ‘আমি ফকির বা দরিদ্রদের খাবার খাওয়াব’, তবে শরিয়তের আইন অনুযায়ী তাকে কমপক্ষে ১০ জন দরিদ্র বা ফকিরকে দুই বেলা খাবার খাওয়াতে হবে। এই নিয়ম মেনে অন্তত ১০ জন দরিদ্র মানুষকে দুই বেলা খাবার খাওয়ালে তার কৃত মানত পূর্ণরূপে আদায় হয়ে যাবে।
মুফতি আব্দুর রহমান জানান, এ সিদ্ধান্তটি ইসলামি ফিকহের প্রাচীন ও নির্ভরযোগ্য গ্রন্থাবলির আলোকে প্রদান করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আল্লামা আব্দুর রশিদ বোখারি (রহ.)-এর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘খোলাসাতুল ফতোয়া’ এবং ফিকহে হানাফির অন্যতম বিশ্বস্ত গ্রন্থ ‘বাদাউস সানায়ে’সহ অন্যান্য ফিকহি কিতাবে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। এসব শরয়ি দলিলের ভিত্তিতেই ফকিহগণ একমত যে, অনির্দিষ্ট মান্নতের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ১০ জন দরিদ্রকে দুই বেলা খাওয়ানো আবশ্যক।
অতএব, কোনো ব্যক্তি যদি নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ ছাড়া সাধারণভাবে দরিদ্রদের খাবার খাওয়ানোর মানত করে থাকেন এবং তার উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়ে থাকে, তবে তার শরয়ি দায়িত্ব হলো, অবিলম্বে অন্তত ১০ জন দরিদ্র বা মিসকিনকে দুই বেলা সম্মানজনকভাবে আহার করানো। এর মাধ্যমে আল্লাহর দরবারে দেওয়া ওয়াজিব অঙ্গীকার পূর্ণ হবে এবং মানত আদায় হয়ে যাবে।


