মানুষ মারা গেলে কোরআন খতম বা দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা আমাদের সমাজে প্রচলিত। অনেক সময় মৃত ব্যক্তির জন্য হুজুর বা হাফেজকে অর্থের বিনিময়ে এসব আমল করানো হয়। তবে এ বিষয়ে ইসলামের বিধান কী- এমন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ।
সম্প্রতি এক অনুসারী শায়খ আহমাদুল্লাহর কাছে জানতে চান, কোনো ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর তার নামে খতম দেওয়া যাবে কি না।
জবাবে তিনি বলেন, মৃত ব্যক্তির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো তার মাগফিরাত কামনা করে আন্তরিকভাবে দোয়া করা। তবে টাকা দিয়ে হুজুর ভাড়া করে দোয়া পড়ানো কিংবা কোরআন খতম করানো জায়েজ নয়। তার দাবি, সারা বিশ্বের ওলামায়ে কেরামের ঐকমত্য অনুযায়ী এ ধরনের কাজ নাজায়েজ ও গুনাহের।
শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও বলেন, মৃত স্বজনের জন্য পরিবারের সদস্যদের নিজেদেরই বেশি বেশি দোয়া করা উচিত। পাশাপাশি তার পক্ষ থেকে সদকা করাও গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আন্তরিকতা বা ইখলাস থাকা জরুরি। অর্থের বিনিময়ে কোরআন তিলাওয়াত বা দোয়া করালে সেই ইখলাস থাকে না। ফলে এভাবে করা আমলের সওয়াব মৃত ব্যক্তির কাছে পৌঁছানোর প্রশ্নও আসে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মৃত ব্যক্তির জন্য করণীয় হিসেবে তিনি তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেন। এগুলো হলো—পরিবার ও সন্তানের পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে দোয়া করা, মৃত ব্যক্তির নামে সদকা করা এবং পরিবারের সদস্যদের নিজেদের কোরআন তিলাওয়াত করে তার গুনাহ মাফের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা।
সদকার ক্ষেত্রে গরিব-দুঃখীদের সহায়তা, মসজিদ-মাদ্রাসা কিংবা জনকল্যাণমূলক কাজে অর্থ ব্যয় করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।


