ইসলামী শরিয়তের সাধারণ বিধান অনুযায়ী, তালাক দেওয়ার ক্ষমতা স্বামীর হাতে। তবে এই ক্ষমতা ইচ্ছামতো বা অন্যায়ভাবে প্রয়োগ করার অনুমতি হিসেবে দেখা উচিত নয়। তালাক একটি গুরুতর সিদ্ধান্ত এবং এর সাথে স্ত্রী, সন্তান ও দুই পরিবারের ওপর নানা ধরনের প্রভাব পড়ে।
কুরআনে তালাকের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম ও ইদ্দতের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সূরা আত-তালাকের প্রথম আয়াতে ইদ্দত যথাযথভাবে গণনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং স্ত্রীকে ইদ্দতের সময় তার বাসস্থান থেকে বের করে না দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
সুন্নাহসম্মত তালাকের ক্ষেত্রে একবার তালাক দিয়ে ইদ্দত পালন করার বিধান রয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় তালাকের পর ইদ্দতের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর পুনর্মিলনের সুযোগ থাকে। কুরআনে বলা হয়েছে, ‘তালাক দুইবার; এরপর হয় বিধি অনুযায়ী রেখে দেওয়া, নয়তো সুন্দরভাবে বিদায় দেওয়া।’—সূরা আল-বাকারা, ২২৯।
তৃতীয় তালাক কার্যকর হলে বিচ্ছেদ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে যায়। এ ক্ষেত্রে আগের স্বামী-স্ত্রী সরাসরি পুনরায় দাম্পত্য সম্পর্কে ফিরতে পারেন না।
একসাথে তিন তালাক সুন্নাহসম্মত কি?
একসাথে তিন তালাক উচ্চারণ করা নিয়ে ইসলামী ফিকহে বিস্তারিত আলোচনা ও মতভেদ রয়েছে। তবে তালাক দেওয়ার ক্ষেত্রে সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি হলো ধাপে ধাপে তালাক দেওয়া এবং পুনর্মিলনের সুযোগ রাখা।
হাদিসে এসেছে, আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) তার স্ত্রীকে মাসিক অবস্থায় তালাক দিলে বিষয়টি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে জানানো হয়। তখন নবীজি (সা.) তাকে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে এবং পরবর্তী সময়ে উপযুক্ত সময়ে তালাক দেওয়ার নির্দেশ দেন। সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে এ ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
এ থেকে বোঝা যায়, তালাকও নির্ধারিত নিয়ম ও সময় বিবেচনা করে দেওয়া উচিত; রাগের মাথায় বা হঠাৎ করে একাধিক তালাক উচ্চারণ করা শরিয়তের আদর্শ পদ্ধতি নয়।


