...|...|...

সারাদেশ

রাজবাড়ী জেলা বিএনপি কার্যালয়ে গভীর রাতে আগুন, তদন্ত শুরু

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪:২৬
Shares
রাজবাড়ী জেলা বিএনপি কার্যালয়ে গভীর রাতে আগুন, তদন্ত শুরু

ছবি: টাইমস টুডে

রাজবাড়ী জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে গভীর রাতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে কার্যালয়ের দেয়ালে থাকা ব্যানার ও লাইট পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কার্যালয়ের কলাপসিবল গেটও।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) দিবাগত গভীর রাতে কোনো এক সময় শহরের জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

সকালে আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন জেলা বিএনপির নেতাকর্মী, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশের সদস্যরা। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

দলীয় নেতারা ঘটনাটিকে পরিকল্পিত নাশকতা দাবি করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে রাজবাড়ীসহ সারা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তারা জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেফতারের দাবি জানান।

তবে এ ঘটনায় এখনই কাউকে দায়ী করতে নারাজ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এডভোকেট লিয়াকত আলী বাবু। তিনি বলেন, আমরা এখনই কাউকে সন্দেহ করছি না। এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজবাড়ীতে কোনো ধরনের সহিংসতা বা সংঘাত হোক, আমরা তা চাই না। আমরা চাই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসুক।

লিয়াকত আলী বাবু আরও বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে ৩ থেকে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, রাজবাড়ীর একটি আলাদা সুনাম রয়েছে। রাজবাড়ী শান্তির শহর, শান্তির জেলা হিসেবে পরিচিত। তাই কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘাত বা দলাদলি তৈরি হোক, আমরা তা চাই না। আমরা কোনো উসকানিমূলক বক্তব্যও দিতে চাই না।

এদিকে দলীয় কার্যালয়ের কেয়ারটেকার আতর আলী জানান, রাত ১টার দিকে তিনি কার্যালয়ের সব কক্ষ ও গেটের তালা পরীক্ষা করে বাড়িতে চলে যান। তখন কার্যালয়ে কোনো সমস্যা দেখতে পাননি। পরে সকাল সাড়ে ৮টার পর আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি নেতাদের জানান।

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আহসান হাবিব বলেন, আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দুষ্কৃতকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানাই। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের প্রকাশ্যে বিএনপিকে মোকাবিলা করার সাহস নেই। রাজবাড়ীর রাজনৈতিক পরিবেশ ও উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মঞ্জুরুল আলম দুলাল বলেন, ঘটনাটি উদ্দেশ্যমূলক ও পরিকল্পিত বলে আমরা মনে করছি। ঘটনা উদঘাটনে পুলিশকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি দলের পক্ষ থেকেও আমরা তদন্ত করব।

রাজবাড়ী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম রোমান বলেন, আমরা ধারণা করছি, সরকারের সাফল্যকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য একটি চক্র বা অপশক্তির মাধ্যমে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

পাশাপাশি এই ঘটনার প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। তারাই প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করতে পারবে। আমরা তো কাউকে ঢালাওভাবে দোষারোপ করতে পারছি না। তবে আমাদের ধারণা, ফ্যাসিস্ট শক্তি বা যারা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, তাদেরই কোনো একটি অংশ রাতের আঁধারে কাপুরুষের মতো এই ঘৃণ্য অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে।

আপনারা জানেন, ১৭ বছর ধরে পুড়ে খাঁটি কয়লা হয়ে যাওয়া বিএনপিকে দমন করা যায়নি। আর এই সামান্য গেটের বাইরে একটু কেরোসিন দিয়ে আগুন ধরিয়ে বিএনপিকে দমন করা যাবে না।

রাজবাড়ী পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কেরোসিন তেল ব্যবহার করে আগুন লাগানো হয়েছিল। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের পাশাপাশি বিএনপির পক্ষ থেকেও তদন্তের কথা জানানো হয়েছে। এখন তদন্তের মাধ্যমে আগুন দেওয়ার ঘটনায় কারা জড়িত এবং কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা বেরিয়ে আসার অপেক্ষায় রয়েছে।