...|...|...

বিশ্ব

সিইসির পদত্যাগের দাবি

যন্তর মন্তরে ফের ‘ককরোচ’দের তীব্র আন্দোলন, বন্ধ ইন্টারনেট সেবা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৩:০২ | আপডেট: ২ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:২০
Shares
যন্তর মন্তরে ফের ‘ককরোচ’দের তীব্র আন্দোলন, বন্ধ ইন্টারনেট সেবা

ছবি: সংগৃহীত

ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বড় ধরনের কারচুপির অভিযোগে ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে নতুন করে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়েছে। 

শুক্রবার (২ অক্টোবর) জেন জি-এর নেতৃত্বাধীন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’এবং বিভিন্ন ছাত্র ও নাগরিক সংগঠনের ডাকে আয়োজিত এই বিক্ষোভে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই প্রতিবাদের মুখে নতুন করে চাপের মুখে পড়েছেন। প্রভাবশালী সংগঠন সিজিপি-র পক্ষ থেকে মুম্বাইতে বিক্ষোভের পাশাপাশি আগামী দিনে দেশব্যাপী এই আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা নতুন দিল্লির যন্তর মন্তরে জমায়েত হন।

শুক্রবার সকালে দিল্লির যন্তর মন্তরে অল্পসংখ্যক বিক্ষোভকারী জড়ো হলে পুলিশ তাদের জোরপূর্বক বাসে তুলে নিয়ে যায়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ওই এলাকার ১১টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয় এবং কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়। শত শত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী ব্যারিকেড দিয়ে পুরো এলাকা ঘিরে রাখে এবং লাউডস্পিকারের মাধ্যমে পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির জমায়েত না হওয়ার বারবার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

এদিকে, যন্তর মন্তরের আশপাশের এলাকাগুলোতে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া একাধিক সংগঠনের প্রতিবাদের ঘোষণা ঘিরে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় ও অন্যান্য আধাসামরিক বাহিনীর সমন্বয়ে প্রায় ৪ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।

পুলিশ যখন এক বিক্ষোভকারীকে বাসে তুলছিল, তখন রিশাভ সিং নামের ওই প্রতিবাদকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিক্ষোভ করা আমাদের মৌলিক অধিকার, এবং আমরা সরকারের কাছে ভোট চুরির জবাব চাই।

এদিকে মুম্বাইতেও দুপুরের দিকে বিক্ষোভকারীদের জমায়েত হওয়ার কথা ছিল এবং সেখানেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ভারতের নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে অভূতপূর্ব প্রশ্ন উঠেছে, যা দীর্ঘদিন ধরে দেশটির অন্যতম বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বিক্ষোভকারীদের মূল অভিযোগ হলো, নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা এমনভাবে পরিবর্তন ও কারচুপি করেছে যা ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি-কে সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছে। তবে নির্বাচন কমিশন ও সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

পদত্যাগের দাবি এবং নির্বাচন কমিশনের অবস্থান

গত মাসে ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয় যে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের দুই ডেপুটি গত ১০ মাসের মধ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন, নিবন্ধন প্রক্রিয়া এবং কমিশনের ডিজিটাল সিস্টেম নিয়ে অন্তত ১৪ বার আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। এরপরই প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ওপর পদত্যাগের চাপ মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়।

যদিও নির্বাচন কমিশনের দাবি, অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় ভিন্নমত থাকাটা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

বৃহস্পতিবার ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিজিপি-র আহ্বায়ক সৌরভ দাস বলেন, আমরা পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছি, কিন্তু সমাজে পরিবর্তন আনার আমাদের একমাত্র হাতিয়ার—ভোটাধিকারই যদি কেড়ে নেওয়া হয়, তবে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন শেষ করব না।

এই গোটা বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গত বছর শুরু হওয়া দেশব্যাপী ভোটার যাচাইকরণ কার্যক্রম। সমালোচকদের মতে, এই প্রক্রিয়ার কারণে লাখ লাখ যোগ্য ভোটারকে নির্বাচনী তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের যুক্তি, মৃত, দ্বৈত বা অযোগ্য ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে শুক্রবার নির্বাচন কমিশন নতুন যোগ্য ভোটার এবং তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের অবিলম্বে নাম নিবন্ধনের নির্দেশ দিয়েছে, যা তাদের কঠোর অবস্থান থেকে কিছুটা নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে, কংগ্রেস পার্টির নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলোও আগামী ৬ অক্টোবর থেকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, বেকারত্ব ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনায় তরুণদের অনলাইন ক্ষোভ থেকে চলতি বছরের শুরুতে জন্ম নেওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ এখন এক অপ্রত্যাশিত রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। অভিজিৎ দিপকের নেতৃত্বে এই দলটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে বিশাল গণবিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়ে জাতীয় খ্যাতি অর্জন করে, যার ফলে মোদির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় ধাক্কা হিসেবে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।

দিল্লির বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জুনি মনিরায়, যার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। জ্ঞানেশ কুমারকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে।