মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এক নাটকীয় ও বিপজ্জনক মোড় নিয়ে কুয়েত এবং বাহরাইনে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ‘ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী’ (আইআরজিসি) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই হামলার সূত্রপাত মূলত হরমুজ প্রণালীতে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর নির্দেশনায় পরিচালিত চারটি তেলবাহী জাহাজ ইরানের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার চেষ্টা করছিল। ইরানি নৌবাহিনী জাহাজগুলোকে সতর্কবার্তা দিলেও তারা তা উপেক্ষা করে অগ্রসর হতে থাকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইরান একটি তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং সেটির গতিপথ স্তব্ধ করে দেয়। এই ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে মার্কিন বাহিনী পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের কেশম দ্বীপ ও সিরিক এলাকার কৌশলগত টেলিযোগাযোগ ও নজরদারি স্থাপনাগুলোতে ড্রোন হামলা পরিচালনা করে। মার্কিন ড্রোন হামলায় সিরিক এলাকায় একজন ইরানি নাগরিক নিহত হন।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পাল্টা আঘাতের জবাবে ইরান অত্যন্ত আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণ করে। তারা কুয়েতে অবস্থিত দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে একাধিক শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। একই সময়ে, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘৫ম ফ্লিট’ সদর দপ্তরকে নিশানা করে একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোঁড়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, হামলার পর বাহরাইনের ওই মার্কিন নৌঘাঁটি থেকে তীব্র ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।
এই আকস্মিক ও বহুমুখী হামলার ফলে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে এক চরম যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে। কুয়েত ও বাহরাইনের মতো কৌশলগত অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি থাকায় এই হামলা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছে।


