...|...|...

বিশ্ব

মার্কিন নৌ অবরোধের মধ্যেও তেল বিক্রিতে ৭.৫ বিলিয়ন ডলার আয় ইরানের

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:৩৩ | আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ভোর রাত ৫:১২
Shares
মার্কিন নৌ অবরোধের মধ্যেও তেল বিক্রিতে ৭.৫ বিলিয়ন ডলার আয় ইরানের

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন নৌ অবরোধ ও চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও চলতি ইরানি বছরের প্রথম চার মাসে তেল বিক্রি থেকে ৭.৫ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয় করেছে ইরান। এই অর্থ দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা হয়েছে বলে জানিয়েছে আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গণমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাত দিয়ে ফার্স জানায়, ২১ মার্চ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত তেল বিক্রি থেকে পাওয়া রাজস্ব ওই সময়ের জন্য নির্ধারিত বাজেট লক্ষ্যমাত্রার ৯৯ শতাংশে পৌঁছেছে।

ফার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেল বিক্রি থেকে পাওয়া এই অর্থ জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় মেটাতে সহায়তা করবে। তেহরানের দাবি, মার্কিন নৌ অবরোধ সত্ত্বেও তারা বাজেটের নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ করে যাচ্ছে।

তবে এই পরিসংখ্যান এমন সময়ে প্রকাশ করা হলো, যখন মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে ইরানের তেল রপ্তানি ও সামুদ্রিক বাণিজ্য চাপে রয়েছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ও তেহরানের বিরোধের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে কৌশলগত হরমুজ প্রণালী।

চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরান এই জলপথে চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীতে অবাধ ও নির্বিঘ্ন নৌচলাচল নিশ্চিত করতে এটি পুনরায় খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।

জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ওই সমঝোতার অন্যতম শর্ত ছিল মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া। তবে ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ওয়াশিংটন সমঝোতায় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত জলপথটি পুরোপুরি খুলবে না তেহরান।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, এসব প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়া এবং নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশের অর্থনীতিতে চাপের কথা স্বীকার করেছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার কোনো প্রভাব নেই—এমন দাবি বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার ভাষায়, দেশ বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং সেই বাস্তবতা মেনে নিয়েই এগোতে হচ্ছে।

এদিকে তেহরানের গভর্নর মোহাম্মদ সাদেক মোতামেদিয়ানের মতে, যুদ্ধের সময় নৌ অবরোধ দেশ পরিচালনায় ‘অত্যন্ত ব্যতিক্রমী ও অনন্য’ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

ইরানিয়ান স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে মোতামেদিয়ান বলেন, অবকাঠামোয় হামলা, নৌ অবরোধ এবং কঠোরতর নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানকে একসঙ্গে নানা ধরনের চাপ মোকাবিলা করতে হয়েছে।

তিনি জানান, যুদ্ধের সময় তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলের অবকাঠামো হামলার শিকার হয়। রাজধানী তেহরান ছিল মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। শুধু তেহরান প্রদেশেই ১ হাজার ২০০টির বেশি বিদ্যুৎ অবকাঠামো হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

পানি সরবরাহের অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং দ্রুত তা মেরামত করা হয়। পাশাপাশি টেলিযোগাযোগ ও গ্যাস পরিষেবাতেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তেহরানের গভর্নর।

মোতামেদিয়ান আরও বলেন, যুদ্ধ চলাকালে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করা হয়েছে, যা অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হয়। এ সময় দেশটির সামরিক, পারমাণবিক ও অবকাঠামোগত বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

জুনের সমঝোতা স্মারকের লক্ষ্য ছিল চূড়ান্ত একটি চুক্তির পথে আলোচনা শুরু করা। তবে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ নৌচলাচল নিয়ে মতবিরোধের কারণে পরবর্তী আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ে।

এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা জানিয়েছে, সংঘাত শুরুর ছয় মাস পরও পারস্য উপসাগরে প্রায় ৪০০টি জাহাজ ও ৬ হাজার নাবিক আটকা পড়ে আছেন।

সংস্থাটির মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ বলেন, কিছু জাহাজ ও নাবিক উপসাগর ছেড়ে যেতে সক্ষম হলেও সংঘাত শুরুর পর থেকে প্রায় ৬ হাজার নাবিকসহ ৪০০টি জাহাজ নিরাপদে চলাচল করতে পারেনি।