...|...|...

বিশ্ব

মার্কিন জনগণের উদ্দেশে আইআরজিসির খোলা চিঠি

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:০৬ | আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৭:০১
Shares
মার্কিন জনগণের উদ্দেশে আইআরজিসির খোলা চিঠি

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) মার্কিন জনগণের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছে। চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ইসরায়েল থেকে নিজেদের আলাদা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানে চলমান যুদ্ধের জন্য ওয়াশিংটনের কড়া সমালোচনা করেছে বাহিনীটি।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি চিঠির বিষয়বস্তু তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, মার্কিনরা ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থা থেকে নিজেদের আলাদা করলে ইরানের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে থাকতে পারবেন। ইরানের গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, কয়েক ডজন পৃষ্ঠার এই চিঠি সরাসরি মার্কিন নাগরিকদের উদ্দেশে লেখা।

চিঠিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, সাত মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে বিনা উসকানিতে যুদ্ধ শুরু করে। এ প্রসঙ্গে মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দফতরে হামলায় তার পরিবারের সদস্যদের নিহত হওয়ার ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। বাহিনীটির ভাষ্য, যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৪০০ শিশুসহ ৩ হাজার ৬০০-র বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশির ভাগই বেসামরিক। এ ছাড়া আটটি বিশ্ববিদ্যালয়, তিনটি হাসপাতাল ও আটটি বিদ্যালয়ে হামলার অভিযোগও করা হয়েছে।

চিঠিতে মার্কিন সরকারকে দুর্বৃত্ত ও শিশুহত্যাকারী আখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে, সামরিক শক্তির জোরে অন্য দেশের সম্পদ লুটের দিন শেষ। ফিলিস্তিনের দখলদারদেরও একসময় ফিরে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছে আইআরজিসি। মানবতাবিরোধী নীতি অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রকে বেদনাদায়ক পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

মোহেব্বি বলেন, শুধু প্রচারের জন্য নয়, ইরানের অবস্থান আন্তরিকভাবে তুলে ধরতেই এই চিঠি। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে শত শত টিভি ও রেডিও নেটওয়ার্ক থাকলেও ইরানের সেই সুযোগ সীমিত, তাই চিঠিকে বেছে নেওয়া হয়েছে। মার্কিন নাগরিকদের অন্তত একবার চিঠিটি পড়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি জানান, যারা উত্তর দিতে বা ব্যাখ্যা চাইতে চান, তাদের জন্য যোগাযোগের একটি ঠিকানা গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। মোহেব্বির বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্র দুই মহাসাগরে ঘেরা এবং প্রতিবেশী দেশগুলো তার জন্য গুরুতর হুমকি নয়। তাহলে বিশ্বজুড়ে ৮০০ সামরিক ঘাঁটির প্রয়োজন কী, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। চিঠির শেষাংশে দাবির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য মার্কিন নাগরিকদের ইরানের যেকোনো স্থানে, এমনকি হরমুজ প্রণালিতেও, সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত হামলায় খামেনি নিহত হন। একই দিন মিনাবের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলায় অন্তত ১৬৮ জন নিহত হন বলে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্যে জানা যায়, যাদের মধ্যে ১০০-র বেশি শিশু। এ ঘটনায় পেন্টাগনের তদন্তের ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি।