...|...|...

বিশ্ব

ফের আকস্মিক বন্যার কবলে নেপাল, ভেসে গেল ঘরবাড়ি-সেতু

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ২:২৩
Shares
ফের আকস্মিক বন্যার কবলে নেপাল, ভেসে গেল ঘরবাড়ি-সেতু

ছবি: সংগৃহীত

হিমালয়ের দেশ নেপালের গোর্খা জেলায় আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় ৩৫টিরও বেশি ঘরবাড়ি এবং বেশ কয়েকটি সেতু ভেসে গেছে। পাশাপাশি একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাত্র কয়েক মাস আগেই দেশটিতে অনুরূপ এক প্রলয়ঙ্করী দুর্যোগে হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানির ঘটনার পর এই নতুন বন্যায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

রবিবার (১১ অক্টোবর) নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আজ সকালে গোর্খা জেলার চুমনুব্রি গ্রামে বুড়ি গণ্ডকি নদীতে হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এই আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। বুড়ি গণ্ডকি নদীটি ত্রিশূলী নদীর একটি উপনদী। গত ২৬ আগস্ট অপর এক উপনদীর উৎসে হিমবাহ ধসে মারাত্মক বন্যায় ১ হাজার ৪৭৫ জন মানুষের প্রাণহানি এবং হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার ভাটিতেই এই নতুন বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।

এনডিটিভির বরাতে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, নদীর পানি সম্পূর্ণ কালো ও ধুসর বর্ণ ধারণ করেছে এবং প্রচণ্ড বেগে ঘন কাদা ও ধ্বংসাবশেষ বয়ে চলেছে।

এনডিআরএমএ-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সকালে ৬টা ৩০ মিনিটে নদীর পানির উচ্চতা ৩.৬৬ মিটার থাকলেও মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে তা বেড়ে ৮.৪৩০ মিটারে গিয়ে পৌঁছায়, যা ৫ মিটারের বিপদসীমাকে অনেকখানি ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে ৮টা ৪০ মিনিটের মধ্যে মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে পানির উচ্চতা দুই মিটারেরও বেশি বৃদ্ধি পায়।

সংস্থাটি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বন্যার তোড়ে পরিমাপ কেন্দ্র ও সেতুটি ভেসে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তবে এই বন্যার পেছনে কোনো বৃষ্টির কারণ নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

প্রাথমিক তথ্য এবং স্যাটেলাইট চিত্র

পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সংস্থাটির ধারণা, নদীর গতিপথ কোনোভাবে অবরুদ্ধ হয়ে পরবর্তীতে তা হঠাৎ ভেঙে যাওয়ার কারণেই এই আকস্মিক বন্যা ঘটে থাকতে পারে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে বিস্তারিত কারিগরি বিশ্লেষণ চলছে বলে জানানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে নদী তীরবর্তী এবং নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে এবং নদী ও ঝুঁকিপূর্ণ জনবসতি থেকে দূরে থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সেনাবাহিনী মোতায়েন ও উদ্ধার অভিযান

দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় তল্লাশি ও উদ্ধারকাজ চালাতে বিমান ও স্থলপথে নেপাল সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, উদ্ধারকারী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে আকাশপথে পর্যবেক্ষণ ও স্থলভাগে মূল্যায়ন পরিচালনা করছে। এছাড়া ভূমিধসের ঝুঁকিতে থাকা জাগাত এলাকা থেকে ছয়জনকে বিমানযোগে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কাঠমান্ডুতে অবস্থানরত একটি ‘কম্পোজিট কুইক রিঅ্যাকশন টিম’-কেও বিশেষ বিমানে করে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় উৎপত্তি হওয়া আগস্টের ধ্বংসাত্মক আকস্মিক বন্যার ক্ষত এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি দেশটি। হিমালয় সীমান্ত অঞ্চল থেকে দক্ষিণ দিকে বয়ে চলা ভাটোকোশী নদীর সেই আকস্মিক ঢলে ঘরবাড়ি, যানবাহন, রাস্তাঘাট ও সেতু ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ওই ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ১ হাজার ৪৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ হয়েছিলেন।