আত্মীয়ের বাড়ি যাওয়ার সময় মাঝরাস্তায় গভীর রাত হওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে উঠেন এক দম্পতি। সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই আনসার সদস্যই ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রবিবার (১২ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাতেই অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলেন- টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর উপজেলার ফলদা পূর্বপাড়া গ্রামের শাহাদাত হোসেন এবং কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার আওতিয়াপাড়া গ্রামের আবু সাঈদ। মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন তারা।
ভুক্তভোগী ওই কিশোরী (১৬) বর্তমানে ওই হাসপাতালের গাইনি বিভাগে চিকিৎসাধীন। তার বাবার বাড়ি মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলায়। অপ্রাপ্তবয়স্ক হলেও প্রায় সাত মাস আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় এক তরুণের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বর্তমানে এই দম্পতি নারায়ণগঞ্জে বসবাস করে।
পুলিশ, ভুক্তভোগী ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জে একটি সুতা তৈরির কারখানায় কাজ করেন ওই কিশোরীর স্বামী। গতকাল বেলা ৩টার দিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে স্বামীর ব্যাটারিচালিত ভ্যানে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় নানাবাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। রাত ১২টার দিকে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এলে ভ্যানের ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে যায়। পরে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে রাত সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে একটি গাছের নিচে আশ্রয় নেন।
আনসার সদস্য শাহাদাত হোসেন ও আবু সাঈদ নিরাপত্তার কথা বলে হাসপাতালের আটতলার নতুন ভবনের নিচতলায় কিশোরী ও তার স্বামীকে নিয়ে যান। এরপর ভয়ভীতি দেখিয়ে স্বামীকে নিচে আটকে রেখে ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে গিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ করেন দুই আনসার সদস্য। পরে নিচতলায় নেমে কিশোরী তার স্বামীকে পুরো বিষয়টি জানায়। বিষয়টি জানাজানি হলে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর স্বজনদের সহযোগিতায় দুই আনসার সদস্যকে আটক করা হয়। পরে খবর পেয়ে হাসপাতাল থেকে ওই দুই আনসার সদস্যকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানার পরেই হাসপাতালে দায়িত্বরত সব আনসার সদস্যদের ডেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হয়েছে। পরে পুলিশ এসে তাদের আটক করে নিয়ে গেছে। ভুক্তভোগী কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় আজ দুপুরে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম হাসপাতালে গিয়ে ভুক্তভোগী কিশোরীর সঙ্গে কথা বলেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকরাম হোসেন বলেন, হাসপাতালে আশ্রয় নেওয়া এক মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই আনসার সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।

