ভোলার লালমোহনে ভাড়া বাসা থেকে আবদুল্লাহ আল মাহমুদ (৩৮) নামে এক মাদরাসাশিক্ষকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজানোর অভিযোগ তুলেছে তার পরিবার। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ৬টার দিকে লালমোহন পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের একটি তিনতলা ভবনের কক্ষ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত আবদুল্লাহ আল মাহমুদ চরফ্যাশন দলিল লেখক সমিতির সভাপতি ও পূর্ব ওমরাবাজ আলিম মাদরাসার সহকারী শিক্ষক ছিলেন। তিনি চরফ্যাশন পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জয়নাল আবেদিনের ছেলে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, তজুমদ্দিন সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের অফিস সহকারী নাহিদা পারভীনের সাথে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে ২০২৩ সালে দ্বিতীয় বিয়ে করেন মাহমুদ। বিয়ের পর থেকে নাহিদাকে নিয়ে লালমোহনের একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, এরপর থেকে মাহমুদকে পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করতে দেওয়া হতো না। তাদের সংসারে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বাবা জয়নাল আবেদিন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সকালে হঠাৎ পুত্রবধূ নাহিদা মুঠোফোনে আমার ছেলের মৃত্যুর খবর জানায়। খবর পেয়ে আমরা এসে দেখি ছেলে ঝুলছে, কিন্তু শুরুতে নাহিদাকে পাওয়া যায়নি, সে গা-ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। আমার ছেলে কখনোই আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখে এখন নাটক সাজানো হচ্ছে।
নিহতের বড় ভাই ও দক্ষিণ আইচা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মুহিবুল্লাহও তার ভাইকে হত্যার অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আমরা আইনি পদক্ষেপ নেব।
এদিকে, ঘটনার পর ওই ভাড়া বাসায় বেশ কয়েকজনকে দেখা গেলেও শুরুতে নাহিদা পারভীনের সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। পরে তিনি প্রকাশ্যে এসে স্বামীর বাড়িতে অবস্থান নেন।
লালমোহন থানার ওসি নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, সকাল ছয়টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।
মৃত্যুর আগের রাতেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন মাহমুদ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নিজের আইডিতে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, “আমাকে হারানোর সবচেয়ে সহজ উপায়-আমাকে অসম্মান করা। অন্যায় সহ্য করতে পারি, অবহেলাতেও ফিরে আসতে পারি। ভালোবাসার জন্য অনেক কিছু মেনে নিতে পারি। কিন্তু আত্মসম্মানে আঘাত করলে আমি নিঃশব্দে শেষ হয়ে যাব। যেভাবে ইতিহাসে হারিয়ে যায়। যেভাবে মায়ের কোল থেকে হারিয়ে যায় ছোট্ট শিশু। আল্লাহ সহায়, আল্লাহ উত্তম বিচারক।”


