...|...|...

বিশ্ব

মাঝপথেই গায়েব যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ, চীনের হাতে যাওয়ার শঙ্কা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১১:৪৮
Shares
মাঝপথেই গায়েব যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ, চীনের হাতে যাওয়ার শঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত

এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমানের অত্যন্ত সংবেদনশীল কিছু যন্ত্রাংশ অস্ট্রেলিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মেরামতের জন্য পাঠানোর পথে হংকংয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে এসব যন্ত্রাংশের কিছু অংশ নিখোঁজ হয়ে যায়। ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তি চীনের নাগালে চলে গেছে কি না।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) পলিটিকোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রগামী ওই চালানটি প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় হংকংয়ের দিকে ঘুরিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। তবে কেন চালানটির গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছিল এবং বর্তমানে যন্ত্রাংশগুলো কার কাছে রয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। চীনা কর্তৃপক্ষের কাছে সেগুলো হস্তান্তর করা হয়েছে কি না, তারও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এফ-৩৫ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিনের হয়ে একটি মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান চালানটি পরিবহন করছিল। পেন্টাগনের এফ-৩৫ যৌথ কর্মসূচি কার্যালয় জানিয়েছে, তারা ‘অকেজো এফ-৩৫ লাইটনিং-২ যন্ত্রাংশের চালান-সংক্রান্ত’ ঘটনার বিষয়ে অবগত। যন্ত্রাংশগুলো উদ্ধারে, ঘটনার তদন্তে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিতে তারা মার্কিন কর্তৃপক্ষ ও শিল্প খাতের অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে।

পলিটিকোর সঙ্গে কথা বলা দুটি সূত্রের দাবি, নিখোঁজ যন্ত্রাংশের মধ্যে এফ-৩৫ বিমানের ককপিট ক্যানোপিও ছিল। পাইলটের আসনের ওপরের এই স্বচ্ছ আবরণ শুধু সুরক্ষার জন্য নয়, বিমানের স্টিলথ সক্ষমতারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ক্যানোপিতে রাডার-শোষণকারী উপাদানের একটি পাতলা স্বচ্ছ স্তর থাকে, যা বিমানের রাডার সংকেত কমাতে সহায়তা করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো দেশের হাতে এ ধরনের যন্ত্রাংশ গেলে সেটির উপাদান ও তৈরির পদ্ধতি পরীক্ষা করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এমনকি আগে গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে সরাসরি পাওয়া যন্ত্রাংশ মিলিয়ে দেখার পাশাপাশি প্রযুক্তিটি পুনর্নির্মাণের চেষ্টাও করা সম্ভব।

কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের সামরিক বিমান চলাচলবিষয়ক বিশেষজ্ঞ জে জে গার্টলার বলেন, চীন বিভিন্ন উপায়ে এফ-৩৫-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে। তার মতে, কোনো যন্ত্রাংশের স্পেসিফিকেশন আগে থেকেই জানা থাকলেও সেটির আসল নমুনা হাতে পাওয়া গেলে অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহ এবং আগের তথ্য যাচাই করা সম্ভব।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ কংগ্রেশনাল কমিটির কর্মীদের ধারাবাহিক ব্রিফিং দেওয়া হয়েছে। পলিটিকোর সূত্র অনুযায়ী, জুনে স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও পেন্টাগনের কর্মকর্তারা প্রথম ব্রিফিং করেন। আগামী সপ্তাহগুলোতে আরও ব্রিফিং হওয়ার কথা রয়েছে।

হংকংয়ে চীনের নিয়ন্ত্রণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও কঠোর হওয়ায় বিষয়টি ওয়াশিংটনের জন্য বাড়তি উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। চীনের জাতীয় নিরাপত্তা আইন হংকংয়ের ভেতরে বেইজিংয়ের প্রভাব ও কর্তৃত্ব বাড়িয়েছে। ফলে সেখানে থাকা সংবেদনশীল সামরিক সরঞ্জামের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসও জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত নয়। অন্যদিকে লকহিড মার্টিন বলেছে, নিরাপত্তার কারণে চালানটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে তারা বিস্তারিত জানাতে পারবে না। তবে তাদের দাবি, বিমানের যন্ত্রাংশ পরিবহনের ক্ষেত্রে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সব নিয়মকানুন মেনে চলে।

এফ-৩৫ কর্মসূচির যন্ত্রাংশ সরবরাহব্যবস্থা একটি জটিল বৈশ্বিক প্রক্রিয়া। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ডেনমার্ক, নরওয়ে ও পোল্যান্ডসহ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া দেশগুলো যৌথ বৈশ্বিক যন্ত্রাংশ ভাণ্ডার ব্যবহার করে। বিমানে সংযোজনের আগ পর্যন্ত এসব যন্ত্রাংশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে যন্ত্রাংশের চলাচলসংক্রান্ত তথ্য পেন্টাগনের পরিবর্তে লকহিড মার্টিন নিয়ন্ত্রণ করে।

অস্ট্রেলিয়ায় এফ-৩৫ রক্ষণাবেক্ষণের কেন্দ্র থাকলেও সেগুলোর কোনোটিই এখন পর্যন্ত ককপিট ক্যানোপি মেরামতের সক্ষমতা অর্জন করেনি। এ কারণেই মেরামতের জন্য ক্যানোপিটি যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হচ্ছিল।

এর আগে ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি হিসাব নিরীক্ষা দপ্তর জানিয়েছিল, তার আগের পাঁচ বছরে এফ-৩৫ কর্মসূচির ১০ লাখের বেশি যন্ত্রাংশ হারিয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পেন্টাগন কোটি কোটি ডলার মূল্যের এসব যন্ত্রাংশ হারানোর বিষয়টি পুরোপুরি যাচাই করতে পারেনি, কারণ সংশ্লিষ্ট তথ্যের বড় অংশ লকহিড মার্টিন ও প্রধান ঠিকাদারদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।